সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

বাটারফ্লাই ইফেক্টের ১৪ গোষ্ঠী - শাওন সিকদার

 তখন ১৯০৬ সাল। জার্মানে একজন চিত্রশিল্পীর গল্প এটা। সেই চিত্রশিল্পীর কাছে একদিন এক ইহুদি মেয়ে এসে হাজির। তার ছবি একে দিতে হবে। তো ছবি আকতে আকতে একসময় দেখাগেলো সেই জার্মান চিত্রশিল্পী ওই ইহুদি মেয়ের প্রেমে পড়ে যায়।যথারীতি সে তার প্রেম নিবেদন করে বসে মেয়েটির কাছে।মেয়েটির মৌন সম্মতি থাকলেও সেই ইহুদি মেয়ের পরিবার যথেষ্ট প্রভাবশালী হওয়ায় এই সম্পর্ক কোনভাবে মেনে নিবে না। বুঝো কান্ডো! যাই হোক এরপরেও তাদের ভালোবাসা দমে যায় নি। সেই চিত্রশিল্পীর একটা কুকুর ছিলো। সেই কুকুরের মাধ্যমে নিয়মিত চিঠি আদানপ্রদান হতো তাদের মাঝে। কিন্ত একদিন ওই মেয়ের পরিবার ওই কুকুরটাকেও মেরে ফেলে। ফলে বাধ্য হয়ে সেই চিত্রশিল্পী হাল ছেড়ে দেয়।

এরপর কোন একদিন কোন কারণে এক ইংরেজ সৈন্য সেই চিত্রশিল্পীর উপর বেজায় রেগে যায়। প্রচুর মারধোর করে তাকে। উপর থেকে মেরে ফেলার অর্ডার পেলেও কোন কারণে তার দয়া হয় এই চিত্রশিল্পীর উপর। সে তাকে আর মারে না।ছেড়ে দেয়।

এরপর আসে ২য় বিশ্বযুদ্ধ। জানেন সেই চিত্রশিল্পী কে ছিলো? এডলফ হিটলার। সেই বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের আদেশে অগনিত ইহুদির মৃত্যু হয়। মানবজাতির ইতিহাসে অন্যতম বড় হত্যাযজ্ঞ। মানুষ জাতির কালো অধ্যায়। সেই অধ্যায় এটা যা মানব জাতিকে কলঙ্কিত করেছে।

হিটলার যখন ফাইন আর্ট একাডেমিতে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করলেন, তখন তাকে সেখান থেকে প্রত্যাখ্যান করা হলো। একবার নয়, দু দু'বার।তার এই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন একাডেমির একজন ইহুদি অধ্যাপক।

এবার আসল কথায় আসি! কি হতো যদি সেই ইহুদি মেয়ের পরিবার থেকে তাদের সম্পর্ক মেনে নিতো? হিটলার সাহেব হয়তো সেই মেয়েকে নিয়ে জার্মানির কোন এক শহরে শান্তিতে বসবাস করতো।কিংবা যদি সেই একাডেমি যদি হিটলারের সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান না করতো তাহলে কি হতো? না হতো সে জার্মানের প্রধান না হতো সেই হত্যাযজ্ঞ।যদি হিটলারকে দ্বিতীয়বারেও একাডেমি গ্রহণ করতো, তাহলেও আজ হিটলার সবার কাছে একজন স্বৈরাচারী হিটলার হিসেবে পরিচিত না হয়ে একজন শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারতেন।

আবার সেই ইংরেজ সৈন্যের কথা ভাবুন। সে যদি ওইদিন দয়া না দেখাতো হিটলারের উপর, কি হতো? এডলফ হিটলার নামে কেউ থাকতো না। বিশ্বযুদ্ধ এত ভয়াবহ হতো না। এত ইহুদি ও মারা যেতো না।

এই কটা ছোট্ট ঘটনা চাইলেই পুরো দুনিয়ার ইতিহাসই বদলে দিতে পারতো। ভাবতে পারেন?এই সামান্য দুইটা ঘটনা হলে এই পৃথীবির ইতিহাস আজ অন্যরকম থাকতো। এখানেই আসে বাটারফ্লাই ইফেক্টের ধারণা।কোনো একটি স্থানের ছোট একটি পরিবর্তন পরবর্তীকালে অন্য কোনো জায়গার বড় ধরনের ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে। এটি পরিচিত বাটারফ্লাই ইফেক্ট নামে।

আমেরিকান এসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্স’ এর ১৩৯ তম অধিবেশনে গণিতবিদ এবং আবহাওয়াবিদ এডওয়ার্ড লরেঞ্জ একটি বিশেষ প্রশ্নের উত্থাপন করেছিলেন। প্রশ্নটি ছিলো এমন যে, ব্রাজিলে যদি কোনো একটি প্রজাপতি তার ডানা ঝাপটায়, তবে সেই ডানা ঝাপটানোর সুবাদে টেক্সাসে টর্নেডো হতে পারে কি না?

প্রশ্নটি শুনে অনেকেই এডওয়ার্ড লরেঞ্জকে মানসিক বিকারগ্রস্ত সাব্যস্ত করতে পারেন। কারণ- প্রথমত, প্রজাপতির ডানা ঝাপটানোর কারণে আর যা-ই হোক, টর্নেডো হতে পারে না। দ্বিতীয়ত, যদি টর্নেডো হয়েই থাকে, তবে ব্রাজিলে না হয়ে সেটা টেক্সাসে হবে কী করে! কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর আমরা যা জানি, তা নাও তো হতে পারে। প্রজাপতির ডানা ঝাপটানোর কারণে টর্নেডো হতেও পারে। আসলে এই অদ্ভুত তত্ত্বকেই ‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’ বা প্রজাপতি প্রভাব বলা হয়ে

“সাধারণত দুনিয়া বদলে দিতে পারে, সেসবের মধ্যে আছে পারমাণবিক বোমা, উন্মাদ রাজনীতিবিদ, বড়সড় ভূমিকম্প অথবা কোনো গণআন্দোলন। কিন্তু আধুনিক চিন্তাধারার কারণে মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, এসব আসলে তাদের ভুল ধারণা। Chaos Theory বা বিশৃঙ্খলা তত্ত্ব অনুযায়ী, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিস বা ঘটনার পরিবর্তন সমগ্র পৃথিবীর পরিবর্তন করতে পারে। একটি প্রজাপতি যখন আমাজন জঙ্গলে ডানা ঝাপটায়, তখন এর ফলে বাকি অর্ধেক ইউরোপে তখন ঝড় হতে পারে।”

--‘গুড ওমেনস’ (Good Omens)

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ