সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

উদ্ভাসে পড়লেই বুয়েটে চান্স পাওয়া যায়? লেখাঃ শাওন সিকদার

 "সাস্টের অনেক বড় ভাই গুগলে চাকরি পাইছে, এজন্য আমি ভাবতেছি সাস্টেই পড়বো!"

" যারা বুয়েটে চান্স পায় তাদের অধিকাংশই উদ্ভাসে কোচিং করে, এজন্য আমিও উদ্ভাসে কোচিং করবো!"

" মেডিকেল এ ফার্স্ট হওয়া আপু বলেছে যে রেটিনায় পড়ার কারণে সে মেডিকেল এ চান্স পাইছে এজন্য রেটিনায় কোচিং করবো!"

কথাগুলো কিন্ত খুব সাধারণ কিছু কথা। আমরা আমাদের জীবনে নিত্যদিন ই এমন ধরনের কথা শুনে থাকি। কথাগুলো কিন্ত সোসাল মিডিয়ায়ও অহরহই ভাসতে থাকে। নিউজ ফিড থেকে বাড়ির সামনের মোড়ের পোস্টার পর্যন্ত সব যায়গায় বড় বড় করে একটাই ডাক পেটানো হয়, "আমাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সব যায়গায় সফল!"

প্রশ্নটা হচ্ছে,

" স্টুডেন্ট রা কী আপনাদের প্রতিষ্ঠানে পড়ার জন্য সফল? নাকি যারা জীবনে সফল হওয়ার যোগ্যতা রাখে তারা আপনার প্রতিষ্ঠানে পড়ে? কোনটা?"

ব্যাপারটা খানিকটা এমন যে, ফর্সা হওয়ার ক্রিম এর বিজ্ঞাপন গুলো দেখেছেন? বিজ্ঞাপনে প্রথমে দেখানো হয় একজন মানুষ যে কালো হওয়ার জন্য বিভিন্ন যায়গায় তার মাঝে কেমন একটু হীনমন্যতা কাজ করে। কিন্ত এরপর কেউ একজন এসে তাকে কোন কোম্পানির ফর্সা হওয়ার ক্রিম সাজেস্ট করে। এরপরে ক্রিম ইউজ করার কয়েক সপ্তাহ পরেই সে কেমন ফর্সা হয়ে যায়! সব যায়গায় কনফিডেন্টলি কাজ করে। আশেপাশের সবাই তাকে দেখে হতবাক হয়ে যায়।

আপনার কি মনে হয়? আসলেই মানুষটা ওই কোম্পানির ফর্সা হওয়ার ক্রিম ইউজ করে ফর্সা হয়েছে? ব্যাপারটা কিন্ত আমরা সবাই জানি যে সেই মানুষ টা ওই ক্রিম ব্যবহার করে ফর্সা হয় নি। সেই মানুষটা আসলেই জন্মগত সুন্দর একই সাথে কিছু মেকাপ করে তাকে আরো সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয় ক্যামেরার সামনে। এই বিজ্ঞাপনে সে এজন্যই আসতে পেরেছে কারণ সে আগে থেকেই দেখতে সুন্দর।

এখানেই আগের প্রশ্ন গুলোও আসে। গুগলে চান্স পাওয়া ভাইয়া টা কী সাস্টে পড়েছে বলে গুগলে চান্স পেয়েছে? নাকি তার মাঝে গুগলে চান্স পাওয়ার কোয়ালিটি ছিলো? বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়া পাব্লিকেরা কি শুধু কোচিং করেছে বলেই বুয়েট মেডিকেলে চান্স পেয়েছে? নাকি তাদের আগে থেকেই এই কোয়ালিফিকেশন ছিলো?

শুধুমাত্র এই উত্তর টা না জানার কারণেই আমরা আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বাহারি বিজ্ঞাপনের চাকচিক্যের মোহে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এই ব্যাপারগুলো যে শুধুমাত্র এই শিক্ষা বানিজ্য কিংবা ফর্সা হওয়ার ক্রিমের ক্ষেত্রে হচ্ছে তা কিন্ত না। আমাদেরকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন ছোটখাটো জিনিস থেকে শুরু করে বিশাল বিশাল ক্ষেত্রেও এমন বাহারি বিজ্ঞাপনের ধোকা হয়েই আসছে। প্রায় ক্ষেত্রেই আমাদের অধিকাংশ সিদ্ধান্ত কোন না কোন ভাবে এসব বিজ্ঞাপন দ্বারা ম্যানিপুলেট হয়। দেখা যায় অনেক ভেবেচিন্তে আমরা যেই সিদ্ধান্ত নেই সেটা কোন না কোন ভাবে আশেপাশের এসব জিনিস দ্বারা প্রভাবিত। এরপর থেকে কেউ আপনাকে স্বর্গে তুলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখালে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাবুন একবার। ব্যপারটা আসলে হচ্ছেটা কী? সে কী আমাকে স্বর্গে নিয়ে যাবে? নাকি আমার মাঝে স্বর্গে যাওয়ার সকল যোগ্যতা আছে? নাকি পুরোটাই ধোকাবাজি? বাহারি বিজ্ঞাপনের ফাদে পা দেওয়ার আগে আরেকবার ভাবুন!

থিম ক্রেডিটঃ আর্ট অব থিংকিং ক্লিয়ারলি

ফটো ক্রেডিটঃ Shutterstock


Writer: Shaon Sikder 






মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ