সাম্প্রতিক লেখাসমূহ
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
স্বপ্ন কীভাবে মিলে যায়? স্বপ্নের আদ্যোপান্ত - লেখাঃ শাওন সিকদার
(১)
- ১৯০৫ সালে খুব আশ্চর্যজনক একটা ঘটনা ঘটে। আমাদের সবার কাছে বহুল পরিচিত একই সাথে ব্যাপক জনপ্রিয় 'থিওরি অব রিলেটিভিটি'। তো এই থিওরির আবিষ্কারক জনাব আলবার্ট আইনস্টাইন দাবি করে বসেন যে তিনি এই 'থিওরি অব রিলেটিভিটি' এর আইডিয়া পেয়েছেন তার স্বপ্ন থেকে।
- এবার আসি নীলস বোর সাহেবের কথায়। শুনা যায় এই মহাশয় ও নাকি ১৯১৩ সালের দিকে এটম এর স্ট্রকচার এর আইডিয়া টা স্বপ্নে পেয়েছেন।
- শ্রী নিভাস রামানুজান কে হয়তো অনেকেই চিনেন কিংবা না ও চিনতে পারেন। এই মহাশয় ১৯ শতকের শুরুর দিকে এমন এমন সব ম্যাথমেটিক্যাল কন্সেপ্ট আবিষ্কার করেন যা কিনা সেই সময়ের জন্য সত্যিই অবাক করার মতো। কিন্ত উনার ও সেই একই দাবি উনি নাকি সব স্বপ্নে পেয়েছেন।
- বেনজিন এর নাম তো সবাই শুনেছেন। বর্তমান যুগে ওষুধ শিল্পের প্রাণ বলা চলে এটাকে। শতাব্দীর অন্যতম এই সেরা আবিষ্কার টা করেন ফ্রেডরিখ অগাস্ট কেকুলে। কিন্ত এখানেও সেই একই প্যাচাল। এটার আইডিয়া ও নাকি উনি স্বপ্ন থেকে পেয়েছেন।
(২)
স্বপ্ন ব্যাপারটা অতটা সহজ জিনিস না সেটা হয়তো উপরের উদাহরণ দেখেই বুঝে গিয়েছেন। প্রিয় পাঠক আপনার প্রশ্নের উত্তরের জন্য আপনার সম্পূর্ণ উত্তরটা পড়া লাগবে। স্বপ্ন সম্পর্কে আপনার বেসিক কিছু জিনিস জানতে হবে। এরপর আসবো আপনার প্রশ্নের উত্তরে। স্বপ্ন এমন একটা টপিক যেটা এখনো বিজ্ঞানের একটা অন্যতম ধাধা। এর আসল রহস্য এখনো অনাবিষ্কৃত। কিন্ত স্বপ্ন আমাদের প্রতিদিনকার জীবনের একটা অন্যতম অংশ।
একজন মানুষ গড়ে প্রতিদিন ৩ -৭ টি স্বপ্ন দেখে। প্রতিটি স্বপ্নের স্থায়িত্ব হয় কয়েক সেকেন্ড থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত। প্রতি রাতে একজন মানুষ প্রায় ২ ঘন্টা স্বপ্ন দেখে কাটায় এবং জীবনে গড়ে ৬০,০০০ ঘন্টা বা ১০ বছর স্বপ্ন দেখেই কাটায়। কিন্ত মানুষ ঘুম থেকে উঠার ৫ মিনিটের মাথায় ৫০% এবং ১০ মিনিটের মাথায় ৯০% স্বপ্ন ভুলে যায়। স্বপ্নের বিজ্ঞান কে Onierology বলে!
- বোনাস পয়েন্টঃ
ভুলে যাওয়া স্বপ্ন সংরক্ষণ করে রাখতে চাইলে মাথার পাশে একটা খাতা কলম নিয়ে ঘুমাতে পারেন। যেহেতু ঘুম থেকে উঠার ১০ মিনিটের মাঝে ৯০% স্বপ্ন ভুলে যাই এজন্য ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে খাতায় লিখে রাখবেন কি স্বপ্ন দেখেছেন।
(৩)
ব্যাপারটা যতটা না অদ্ভুত তারচেয়ে বেশি রহশ্যময়। মানুষ সেই আদিম কাল থেকে স্বপ্ন দেখে আসছে মানে স্বপ্ন ব্যাপারটা সেই সৃষ্টির শুরু থেকেই আছে আমাদের সাথে কিন্ত আমরা এখনো আবিষ্কার করতে পারিনি স্বপ্ন আসলে কি? এটার সম্পর্কে কোন ইউনিভার্সাল স্বীকৃত মতামত নেই। তবে আমরা কিছুটা ধারণা করতে পারি স্বপ্ন কী! কিছু থিওরি আছে স্বপ্নের ব্যাখা সম্পর্কিত। আলোচনা করে দেখা যাক আপনার প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় কি না!
• আদিম কালের কনসেপ্টঃ
মানুষ হাজার হাজার বছর আগে থেকে মানে সেই আদিম কাল থেকেই স্বপ্ন দেখে আসতেছে। তখনকার মানুষ ভাবতো তারা হয়তো কোন আত্মা কিংবা কোন স্পিরিট এর সাথে কন্টাক্ট করতেছে কিংবা কোন মেসেজ পাচ্ছে। অনেকে ভাবতো সৃষ্টিকর্তা হয়তো কিছু বুঝাতে চাচ্ছে তাদেরকে স্বপ্নের মাধ্যমে। আর আমরা জানি এই কনসেপ্ট কিন্ত এশিয়া এবং খানিকটা ইউরোপীয় অঞ্চলে এখনো বহুল প্রচলিত। ধারণা করা হয় যত প্রকার মিথোলজি আছে সবকিছুর শুরু এই স্বপ্ন থেকেই।
বাইবেল বলুন আর অন্য ধর্মের কথাই বলুন কিংবা কোন জাতির কথাই বলুন স্বপ্নের ব্যাখ্যায় সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে প্রাচীন মিশরের মানুষ তারা কয়েকটি ভলিয়াম এ বিশাল বিশাল বই লিখেছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা নিয়ে। মানুষের ভাষা যেমন অক্ষর দিয়ে লেখা। স্বপ্নের ভাষা হলো সিম্বল। আমরা স্বপ্নে যেসব সিম্পল সাধারণত দেখতে পাই এসব সিম্বলের পাঠোদ্ধার করে এসব বই লিখেছে মিশরীয়রা। আর সবচেয়ে বড় কথা স্বপ্ন বিশারদ রা এখনো স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য প্রাচীন মিশরীয় এসব বইয়ের সাহায্য নেয়!
•সাইকো এনালিটিক্যাল থিওরিঃ
আদিম কালের কনসেপ্ট থেকে মানুষ আরেকটু বেশি জানার চেস্টা শুরু করেছিলো যে স্বপ্নে আসলে হচ্ছে টা কী? যেসব মানুষ এই চেস্টা করেছিলো তার মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রতিষ্ঠিত হলো সিগমুন্ড ফ্রয়েড এর মতবাদ সমূহ!
স্বপ্ন আসলে কী এটার মোটামুটি ভালো একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন সিগমুন্ড ফ্রয়েড। তার লেখা বই, " The interpretation of dreams" বইয়ে তিনি বলেছেন,
"স্বপ্ন হলো আমাদের অবদমিত আকাঙ্খার প্রতিফলন"
আমাদের অনবদমিত ফ্যান্টাসি পূরণ করে স্বপ্ন। ধরুন আপনার কারো সাথে সেক্স করা ইচ্ছে, কিংবা কোন একটা কাজ করার ইচ্ছে কিন্ত আপনি নিজেকে কন্ট্রোল করে রেখেছেন এসব করা থেকে। আপনার এসব ইচ্ছে পূরণ করবে আপনার স্বপ্ন।
কিন্ত ফ্রয়েড এর এই মতামত বেশিদিন নিজের রাজত্ব ধরে রাখতে পারে নি। কারণ ফ্রয়েড এর মতবাদ এ অনেক ত্রুটি ছিলো যার মাঝে অন্যতম হলো যে আমরা শুধু আমাদের ফ্যান্টাসি পূরণের স্বপ্ন দেখি না। আমরা অন্যান্য স্বপ্ন ও দেখি যেমনঃ উপর থেকে পড়ে যাওয়া, কেউ মারা যাওয়া, সাপে কাটা। কিন্ত এসব স্বপ্নের কোন যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারেনা ফ্রয়েড এর মতবাদ।
এছাড়াও ফ্রয়েড সচেতন মন, অবচেতন মন আর অচেতন মন এগুলো দিয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছে স্বপ্ন আসলে কীভাবে আসে। কিন্ত ব্যাপারটা যেহেতু এখন আর গ্রহনযোগ্য না তাই ব্যাখ্যা করলাম না।
• ইনফরমেশন প্রসেসিং থিওরিঃ
আরেকটি জনপ্রিয় থিওরি আছে স্বপ্নের ব্যাপারে সেটা হলো ইনফরমেশন প্রসেসিং থিওরি।
এই থিওরি মতে মস্তিষ্ক সারাদিন যেসব ইনফরমেশন পায় রাতের বেলা সেগুলো প্রসেস করে। তো এসব ইনফরমেশন প্রসেসিং এর সময় মস্তিষ্কের বিভিন্ন নার্ভ মাঝে মাঝে সক্রিয় হলে ছোট খাটো ভিসন আমরা দেখতে পাই আর আমাদের মস্তিষ্ক অবচেতন মনে এসব ভিসন রিলেট করার চেস্টা করে। আর এটাই হলো স্বপ্ন। এক কথায় স্বপ্ন হলো ইনফরমেশন প্রসেসিং এর একটা অংশ।
(৪)
• এক্টিভেশন সিনথেসিস মডেলঃ
(এটা হচ্ছে স্বপ্ন নিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় থিওরি৷ প্রিয় পাঠক আপনার প্রশ্নের উত্তর এই অংশে পাবেন একই সাথে এই অংশ টা একটু বিস্তারিত হতে যাচ্ছে। ধৈর্য সহকারে পড়ার আমন্ত্রণ রইলো।)
আমারা যখন ঘুমাই তখন আমাদের ঘুমের বিভিন্ন ধাপ থাকে। প্রথমে যখন ঘুমানোর উদ্দেশ্যে চোখ বন্ধ করি তখন আসে (১) ট্রানজিশন ফেজ। এই ফেজে আমরা রিল্যাক্স করতে শুরু করি মানে আস্তে আস্তে ঘুমের দিকে অগ্রসর হই। এরপর আসে (২) লাইট স্লিপ ফেজ। এই ফেজে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা, শ্বাস প্রস্বাস গ্রহন আস্তে আস্তে কমতে থাকে। এরপর আসে (৩) ডিপ স্লিপ। আর এই ডিপ স্লিপের পরে আসে (৪) রিম স্লিপ [REM: Rapid Eye Movement] আমাদের ঘুমিয়ে পড়ার ৯০ থেকে ১২০ মিনিট পর রিম স্লিপ ফেজ শুরু হয়।
মানে ১,২,৩ ধাপ সম্পন্ন হতে হতে ৯০-১২০ মিনিট লেগে যায়। এরপরে আসে রিম স্লিপ ফেজ। আর আমরা যত স্বপ্ন দেখি তার অধিকাংশ এই রিম স্লিপ ফেজে দেখে থাকি।আর ঘুমানো অবস্থায় সাধারণত প্রতি ৯০-১২০ মিনিট পর পর আমরা স্বপ্ন দেখে থাকি। আমরা জানি ঘুম থেকে জাগার প্রায় ১০ মিনিটের মাথায় আমরা ৯০% স্বপ্ন ভুলে যাই কিন্ত রিম স্লিপ ফেজে আমরা যেসব স্বপ্ন দেখি সেগুলো হয় অত্যন্ত সক্রিয় এবং অনুভূতি বোধ সম্পন্ন। এজন্য এই স্বপ্ন আমরা ভুলি না।
(৫)
এবার আসি স্বপ্নের ধরণ নিয়ে। রিম স্লিপ ফেজে আমরা অনেক ধরনের স্বপ্ন দেখতে পারি। যেমনঃ
- কমন ড্রিমঃ
কমন ড্রিমে আমরা এমন সব স্বপ্ন দেখে থাকি যেগুলো আসলে কোন বাস্তবিক ভ্যালু নেই। সম্পূর্ণ যুক্তি হীন অদ্ভুত আজগুবি স্বপ্ন দেখে থাকি আমরা। আমাদের মস্তিষ্কের প্রি ফ্রন্টাল কর্টেক্স যা আমাদের যুক্তি বিবেক এসব নিয়ন্ত্রণ করে, আমরা রিম স্লিপে গেলে তা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এজন্য আমরা এসব আজগুবি স্বপ্ন দেখি। তবে এসব স্বপ্ন দেখার পেছনে কিছু কারণ খোজার চেস্টা করছেন মনোবিজ্ঞানীরা। যেমনঃ
- আপন কাউকে মারা যেতে দেখাঃ
সাইকোলজিস্ট দের মতে আপনি যদি এমন স্বপ্ন দেখেন তার মানে আপনার আবেগের জগতে টানাপোড়েন চলছে। আর এই ধরনের স্বপ্ন সাধারণত বৃদ্ধ মানুষ যারা জীবন নিয়ে হতাশ কথা কিংবা একাকীত্বে জীবন কাটছে তারা বেশি দেখে।
- নিচে পড়ে যাওয়াঃ
এটাকে আমরা হিপনিক জার্ক ও বলে থাকি। মনোবিজ্ঞানীরা ধারণা করেন যদি আমাদের বাস্তবিক জীবনে এমন কিছু হয় যে কোন কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে কিংবা কোন সম্পর্কে অজান্তেই আস্তে আস্তে শেষের দিকে এগোচ্ছে তাহলে এই ধরনের স্বপ্ন দেখে থাকি আমরা।
আসলে স্বপ্ন হলো আমাদের অবচেতন মনের চিন্তা, চেতন মনের ভাবনা আর প্রতিদিনকার অভিজ্ঞতার একটা সামগ্রিক রূপ!
- লুসিড ড্রিমঃ
লুসিড ড্রিম ব্যাপারটাকে আপনি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বায়োলজিকাল ভার্সন বলতে পারেন। কমন ড্রিমে আমরা যেসব স্বপ্ন দেখি তার উপর আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না কারণ ঘুমন্ত অবস্থায় ব্রেইনের প্রি ফ্রন্টাল কর্টেক্স নিষ্ক্রিয় থাকে। কিন্ত কখনো কখনো এই প্রি ফ্রন্টাল কর্টেক্স সক্রিয় হয়ে যায়। আমাদের বিবেক বোধ বুদ্ধি ফিরে আসে তাও ঘুমের মাঝেই। আমরা বুঝতে পারি যে আমরা স্বপ্ন দেখতেছি এমনকি ইচ্ছেমতো স্বপ্ন কে নিয়ন্ত্রণ ও করতে পারি। এক টাইপের এডভেঞ্চার বলতে পারেন।
- পাস্ট লাইফ ড্রিমঃ
এটা অনেকটা টাইম ট্রাভেলের মতো। ধরুন আপনি ঘুমাচ্ছেন, হঠাৎ করে ঘুমের মাঝে স্বপ্নে দেখবেন আপনি আছেন সেই পলাশীর যুদ্ধ ক্ষেত্রে যেটা সম্পর্কে আপনি আগে পড়েছেন। মানে আমাদের স্মৃতিতে সংরক্ষিত থাকা আগের কিছু ভিসনে আমরা আমাদেরকে আবিষ্কার করি।
- ড্রিম ইন এ ড্রিমঃ
এটার সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ হলো ইনসেপশন মুভি টা।
একটা স্বপ্নের ভেতর আরেকটা স্বপ্ন। সেটার ভেতর আরেকটা স্বপ্ন। একটার পর একটা লুপ। এই জিনিসটা অনেক মানুষ ইভেন আমিও ফেস করেছি। ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখলাম যে একটা বাঘ আমকে তাড়া করে প্রায় খেয়েই ফেলছিলো ঠিক সে সময় ঘুম ভেঙে গেলো। হাফ ছেড়ে বাচলাম কিন্ত হঠাৎ সময় বাঘ আবার আসলো। বাস্তবে কীভাবে আসলো বাঘ সেটা ভেবে চমকে যাই।কিছুক্ষণ পর আবার ঘুম ভেঙে যায়। আর দেখা যায় একটু আগে যেটাকে আমি বাস্তব ভেবেছিলাম সেটাও স্বপ্ন।
- দুঃস্বপ্ন ঃ
আমরা কেন খারাপ স্বপ্ন দেখি এটার কোন সঠিক কারণ জানা নেই তবে একটা থিওরি আছে মোটামুটি বিশ্বাসযোগ্য। থ্রেট সিমুলেশন থিওরি। এই থিওরি অনুসারে মস্তিষ্ক আমাদের একটা নিরাপদ পরিবেশে অর্থাৎ স্বপ্নে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার ট্রেনিং দেয় যা আমাদের সারভাইভ করার জন্য কাজে লাগে। ধরুন আপনি স্বপ্নে দেখলেন একট ডাকাত আপনাকে ধরলো আর আপনি পালাচ্ছেন। এরপর বাস্তব জীবনেও আপনাকে একটা ডাকাত ধরলো। বাস্তব জীবনে ডাকাতের হাত থেকে নিরাপদে থাকার জন্য আপনার স্বপ্নে ডাকাত কে ফেস করার অভিজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রে কাজে দিবে। এটাই হলো থ্রেট সিমুলেশন থিওরি।
-প্রিকগনিটিভ ড্রিমঃ
(দুঃখিত আপনার উত্তর শেষে দেওয়ার জন্য।)
প্রিকগনিটিভ ড্রিম হলো এমন একটা স্বপ্ন যেখানে মানুষ ধারণা করে তারা স্বপ্নে ভবিষ্যৎ দেখছে কিংবা দেখতে পাচ্ছে। আমি প্যাচানোর আগে বলে দেই এই জিনিসটা আসলেই প্যাচানো আর রহস্যময়। বিজ্ঞান এখনো এটার পক্ষে কোন প্রমাণ পায়নি কিন্ত প্রতিদিন অগনিত মানুষ দাবি করে আসছে তারা স্বপ্নে ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে। কিছু ফেমাস উদাহরণ দিলে বুঝবেন!
- আব্রাহাম লিংকন হত্যাকাণ্ডঃ
তার হত্যার প্রায় 2 সপ্তাহ আগে, রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিঙ্কন তার স্ত্রী এবং তার কয়েকজন বন্ধুর কাছে একটি সাম্প্রতিক স্বপ্ন বর্ণনা করেছিলেন।
তিন হোয়াইট হাউজের মধ্য দিয়ে হেটে হেটে তার মৃত দেহের পাশে যাচ্ছেন আর সেখানে যাওয়ার পর তার নিজের মৃতদেহের পাশে বসে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন।
- কার্ল জং এর স্বপ্নঃ
জং, আধুনিক সাইকোথেরাপির অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা, বেশ কিছু পূর্বজ্ঞানমূলক স্বপ্ন এবং অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন।
তার একটি স্বপ্ন তাকে তার মায়ের মৃত্যুর বিষয়ে সতর্ক করেছিল। তিনি 1914 সালের প্রথম দিকে তিনটি স্বপ্নের একটি সিরিজ বর্ণনা করেছিলেন যা একটি "অন্ধকার" ইউরোপকে একটি বিপর্যয়ের কবলে নিয়েছিল। অনেক লোক এই স্বপ্নগুলিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুর সাথে যুক্ত করেছিল
- আবেরফান ভূমিধসঃ
1966 সালে সাউথ ওয়েলসের একটি স্কুলে কয়লা খনি থেকে বর্জ্য পুঁতে ফেলার সময় প্রায় 150 শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মৃত্যু হয়েছিল।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জন বার্কার যখন শহর পরিদর্শন করেন এবং অনেক বাসিন্দার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি বুঝতে পারেন যে তাদের মধ্যে অনেকেই দুর্যোগ সম্পর্কে কিছু ধরণের পূর্বাভাস অনুভব করেছেন।
এমনকি মারা যাওয়া কিছু শিশুও ভূমিধসের আগের দিনগুলিতে মারা যাওয়ার স্বপ্ন এবং পূর্বাভাসের কথা বলেছিল।
বার্কার লন্ডনের একটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন, যে কেউ ভূমিধসের আগে পূর্বাভাস পেয়েছিলেন তাকে লিখিত অ্যাকাউন্ট পাঠাতে বলে। তিনি 60টিরও বেশি উত্তর পেয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেকটি বিপর্যয়ের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করেছে।
কারণঃ
কগনিটিভ ড্রিম এর কারণ হিসেবে অনেক থিওরি আছে। বিজ্ঞানীরা অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছেন এটা নিয়ে এতে একটা কমন জিনিস লক্ষ করা গেছে আর তা হলো স্বপ্নের সাথে রিলেটেড জিনিস মানুষ বেশি মনে রাখছে। এজন্য তাদের মনে হচ্ছে তারা পূর্বাভাস পাচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে কাকতালীয় ভাবে মিলে যাচ্ছে যার কোন ব্যাখ্যা নেই। আবার অনেকের দাবি হলো অবচেতন মনের সংযোগ। মানে ধরুন আপনার রিলেশন ইদানিং ভালো যাচ্ছে না। এখন আপনি স্বপ্নে দেখলেন যে আপনার ব্রেকাপ হয়ে গেছে। দেখা যাবে পরে সত্যিই ব্রেকাপ হয়ে গেছে। ব্যাপারটা এমন।আমাদের অতীত পরিস্থিতি অনেক ভাবে ম্যানিপুলেট করে স্বপ্ন কে সত্য করা জন্য। আর সত্য হয়ে গেলে আমরা ভাবি পূর্বাভাস পেয়েছি কিংবা আংশিক মিলে গেলেও আমাদের মস্তিষ্ক এই আংশিক মিলটাকেই রিলেট করে সত্য হিসেবে ধরে নেয়।
(সমাপ্ত)
এতক্ষন কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
#শাওন
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
জনপ্রিয় লেখাসমূহ
উদ্ভাসে পড়লেই বুয়েটে চান্স পাওয়া যায়? লেখাঃ শাওন সিকদার
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
বাটারফ্লাই ইফেক্টের ১৪ গোষ্ঠী - শাওন সিকদার
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
আমাদের ব্যক্তিত্বের কোন দিক পরিবর্তন করা সবচেয়ে কঠিন? - শাওন সিকদার
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
জীবনে উন্নতির আসল মানে কী? - শাওন সিকদার
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
মন্তব্যসমূহ