সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

আহা জীবন! - লেখাঃ শাওন সিকদার

এডমিশন কোচিং এর সুবাদে জীবনে প্রথমবার কোন হোস্টেলে উঠেছি।তাও ঢাকার শহরে। এটা আসলে সেই হোস্টেল না যেখানে আমার উঠার কথা ছিলো৷ আমার হোস্টেলে ১ তারিখের আগে উঠা যাবে না আর এখন মাসের ২৮ তারিখ। আমি এখানে ২৪ তারিখেই উঠে গেছিলাম। এটা হলো আমার এক ফ্রেন্ডের হোস্টেল। এজন্য ১ তারিখ পর্যন্ত এখানেই উঠলাম। 


হোস্টেলে আসার পরেই দুজন বড় ভাইয়ের সাথে পরিচয় হলো। আমার ফ্রেন্ড তারা বাসায় চলে গেছে কিছুদিনের জন্য। সেজন্য আমি আর সেই দুইভাই আছি শুধু হোস্টেলে রুমে। এরমধ্যে একজন জব করে আর অন্য একজন জবের জন্য পড়াশোনা করতেছে তার নাম কিবরিয়া। যেই ভাই জব করে তার সাথে অতটা কথা না হলেও অন্যজনের সাথে মানে কিবরিয়া ভাইয়ের সাথে মোটামুটি ভালোই কথাবার্তা হয়। সবচেয়ে খুশি হয়েছি কারণ সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে তাও প্রথমবারেই এমন ভালো আর সাপোর্টিভ একটা পরিবেশ। দুজন ভাই ই অত্যন্ত ভালো মানুষ। আমার এর আগে কখনো হোস্টেলে উঠা হয়নি এজন্য তেমন ধারণা নেই তবে প্রথম অভিজ্ঞতা সত্যিই অনেক ভালো ছিলো।




ভাই দুজন সবসময় বলবে স্পেশালি কিবরিয়া ভাই, শাওন কোন সমস্যা হলে বলবা! শাওন সব ঠিক আছে?! শাওন খাবার হয়ে গেছে খেয়ে নেও! মানে কখনোই মনে হয়না যে আমি নিজের বাসা থেকে কত্তমাইল দূরে এক অচেনা যায়গায় সম্পূর্ণ অচেনা মানুষদের সাথে আছি।



কালকের কথা! দুপুরেও খাওয়ার সময় আমি আর কিবরিয়া ভাই একসাথে খাচ্ছিলাম। হোস্টেলের খাবার কেমন হয় তা কারোই অজানা নয় কিন্ত উনার সাথে আড্ডা দিতে দিতে খাওয়ার একটা অন্যরকম ফিলিংস ছিলো! কথা বলতে বলতে কথা আসলো এডমিশন প্রসঙ্গে। 


আমাকে বলে," তুমি বই রেখে সারাদিন মোবাইল নিয়ে পরে থাকো এডমিশন দিবা কীভাবে?" 

বললাম ভাই ১ তারিখে আমার ফার্মগেটের হোস্টেলে গেলে ইনশাআল্লাহ শুরু করবো। 

এরপর অনেক কথা বার্তা হইলো,সব ভালোই ছিলো কিন্ত একটা সময় গিয়ে আমি থমকে গেলাম! এই হাসিখুশি মানুষটা নিজের ভেতর কি পরিমাণ কষ্ট আর আফসোস নিয়ে বসবাস করতেছে তা এতদিন তার পাশে থেকেও বুঝতে পারিনি।


হঠাৎ কিবরিয়া ভাই বললো যে, "শাওন তুমি তো ভালোই লম্বা আছো, তোমার সবকিছুই ফিটফাট, তুমি ডিফেন্সে দাড়ায়ে যাও!"

 আমি বললাম যে ভাই আমার ডিফেন্সের শখ নেই কোন নর্মাল ভার্সিটিতে হলেও সি এস ই পড়ার ইচ্ছে আমার। এরপর উনি একটা দ্বীর্ঘস্বাস ছাড়লেন। বললেন যে" তুমি অফিসার র‍্যাংকে চান্স পাইলেও ভার্সিটিতে পড়তে পারবা। BUP তে পড়তে পারবা, ভালো সাব্জেক্ট ও পাইবা।"

বললাম যে "ভাই তবুও আমার ডিফেন্সে যাওয়ার ইচ্ছে নেই! "

এরপর উনার মুখটা আরো মলিন হয়ে গেলো! বললো "আমি চান্স পাইসিলাম ডিফেন্সে! কিন্ত পড়া হয়নি!"


আমি তো অবাক! আমার জানামতে ভাই কোন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে BBA করেছে এখন চাকরির জন্য চেস্টা করতেছে! তাইলে? বললাম যে ভাই তাইলে আপনি প্রাইভেট থেকে BBA কেন করলেন?


একটু মলিন হাসি দিয়ে বলতে শুরু করলো,

" আসলে আমি সেকেন্ড টাইমার ছিলাম। এক্সাম দিয়েছিলাম অনেক যায়গায় চান্স ও পেয়েছি। আমার জাহাঙ্গীরনগর এ ডি ইউনিটে ১৭৯ তম আসছিলো! সেখানে আমি ভালো একটা সাব্জেক্ট পেয়ে যেতাম। কিন্ত সেখানে ভর্তি হওয়ার আগেই খবর আসলো আমার ডিফেন্সে হয়ে গেছে! তাও অফিসার র‍্যাংকে! এজন্য আর জাহাঙ্গীরনগরে ভর্তি হইনি। আমার ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিলো ডিফেন্সে কাজ করবো। নিশ্চিত জব+ BUP এর মতো ইউনিভার্সিটি এজন্য আর যাইনি জাহাঙ্গীরনগরে"



আমি তো অবাকের সপ্তম আকাশে। উনি এতভালো ছাত্র হয়েও এভাবে জবের জন্য ছোটাছুটি কেন করেন? আর এমন টপার স্টুডেন্ট হওয়ার পরেও ভর্তি কেন হননি? একটু ইতস্তত ভাবে জিজ্ঞেস করলাম," তাইলে ভাই তাহলে কি হইছিলো?"


আবার বলতে লাগলেন, "সেনাবাহিনী হেডকোয়ার্টার থেকে আমার যাওয়ার টিকেট, পোশাক থেকে সবকিছু পাঠিয়ে দিয়েছিলো! আমার যাওয়া একদম নিশ্চিত ছিলো!কিন্ত হলো না! এডমিশন হওয়ার ঠিক চার পাচ দিন আগের কথা! একটা কাজে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলাম রাস্তা দিয়ে কিন্ত হঠাৎ কোথা থেকে যেন একটা ট্রাক এসে মোটরসাইকেল সহ উড়ায়ে দিয়ে গেলো! আমি রাস্তার যেখানে পড়েছি সেখান থেকে অন্তত ৪-৫ হাত ছ্যাচড়ায়ে চলে গেছিলাম এত জোড়ে ধাক্কা দিয়েছিলো। সেখানেই তিন বার বমি করেছিলাম। মাথার,  মুখের, হাটুর চামরা উঠে একদম রক্তারক্তি হয়ে গেছিলো! এমনকি আমার বা হাত ও আগলা হয়ে গেছিলো! ডাক্তার তো বলেছিলো আমি বাচবোই না! কিন্ত আল্লাহ এখনো বাচায়ে রাখছে এজন্য তোমার সামনে বসে আছি!"



লক্ষ করে দেখলাম উনার মাথার সামনের অংশে কোন চুল নেই। মুখে এখনো ছোপ ছোপ দাগ আছে! উনার আগের একটা ছবি দেখিয়েছিলো! একটা এক্সিডেন্ট উনার আকাশ পাতাল পরিবর্তন করে দিয়ে গেলো! কেমন সিনেমার মতো জীবনটা পরিবর্তন হয়ে গেলো! আজকে তার থাকার কথা ছিলো সেনাবাহিনীর কোন হেডকোয়ার্টারে কোন অফিসার হিসেবে, সেখানে সে এখন একটা চাকরির জন্য দৌড়াদৌড়ি করতেছে। একটা এক্সিডেন্ট কীভাবে উনার সবকিছু কেড়ে নিয়ে গেলো! বলার কোন ভাষা ছিলোনা আমার, শুধু আফসোস করে বললাম, " আহা জীবন!"


এরপর বললেন যে,!" ওই অবস্থার ট্রমা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লেগে গিয়েছিলো। টাইম মতো না যাওয়ায় আমার জাহাঙ্গীরনগর ভার্সিটি  আর ডিফেন্স কোনটাই হলো না! এরপর একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে BBA করলাম"


আমি আর কি বলবো বুঝতে পারতেছিলাম না! একটা হাসিখুশি মানুষ নিজের ভেতর এতটা দুঃখ লুকিয়ে রেখে বেঁচে থাকতে পারে এটা ভাবলেই অবাক লাগে! জীবন কখনো পরিকল্পনা মতো চলে না!  উনার জীবনও চলেনি। আমার জীবনও চলেনি। সম্ভবত কারো জীবনই পরিকল্পনা মতো চলে না। জীবন নিজের মতো চলে! আর তার কাছে আমরা অসহায়! আহা জীবন!


মন্তব্যসমূহ

Unknown বলেছেন…
sad!!
Shaon Sikder বলেছেন…
🙂

জনপ্রিয় লেখাসমূহ