সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

বাচ্চাকালের ভালোবাসা - শাওন সিকদার

 ক্লাশ থ্রি এ পড়ি তখন। মেয়েটার নাম বলা যাবেনা। ক্রাশ খেয়ে বসেছি তাকে দেখে নাহ এটা বললে ভুল হবে একদম প্রেমে পড়ে গেছি।সেও আমার ক্লাশমেট ছিলো। সারাদিন গুনগুন করে গান গাই আর তারে ভাবি। কত স্বপ্ন দেখি তারে নিয়ে।সারাক্লাশ তার দিকে তাকিয়ে থাকি।আহা! এখনো মনে আছে ফিলিংস টা! সে কি ভালোবাসা।


তো একদিন আমারি একটা ফ্রেন্ড। সেও আমার মত মজনু ছিলো অন্য মেয়ের প্রেমে। সেই বন্ধুও ক্লাশ থ্রি এ পড়ে। সে একদিন তার প্রেমিকার নাম লিখলো হাতে কলম দিয়ে। এটা দেখে আমার মাথায়ও ভূত চাপলো নাম লেখার। আমিও লিখে ফেললাম কলম দিয়ে সেই নাম। জানিনা এরপর কি হয়েছিলো, আমার ভালোবাসায় কোন খাদ নেই এটা প্রমাণের জন্য জ্যামিতি বক্সের কম্পাস দিয়ে হাত কেটে কেটে ওর নাম লিখছিলাম।কেন যে এমন করলাম আল্লাই জানে। তাও ক্লাশ থ্রি তে।

যাই হোক হাত যে কেটেছি এটা তো ওকে দেখাতে হবে।নইলে কেমনে বুঝবে আমি এত ভালোবাসি।এটা দেখে রাজিও হয়ে যেতে পারে। তো ওকে এটা দেখানোর জন্য ক্লাশের গেইটের সামনে মজনু স্টাইলে দাড়ালাম। দরজার সাথে হেলান দিয়ে।হাতটা মাথার উপর। দরজা দিয়ে যারা আসবে যাবে তারা সবাই দেখবে আমার হাত কেটে একটা নাম লেখা। তো ও এসে পড়লো একসময়। আমার হাতে ওর নাম লেখা দেখেই চটে গেলো।পুরো ক্লাশের সামনে,"শাওন! তুই হাতে এটা কি লেখছোস?তুই আর জীবনে আমার সাথে কথা বলবি না" এটা বলেই হন হন করে বেরিয়ে গেলো।পুরো ক্লাশের সামনে মান ইজ্জত প্লাস্টিক হয়ে গেসে।মজনু বেটা মদন হয়ে গেলাম পুরা।

এখানে থেমে থাকলে কথা ছিলো।কিন্ত ঘটনা এখানেই শেষ নয়।পরের ক্লাশে আমাদের স্কুলের সবচেয়ে জাদরেল স্যার এক জোড়া বেত নিয়ে ক্লাশে প্রবেশ করে। হাসতে হাসতে আমার দিকে তাকায়। এসেই আমারে বলে," প্রেমিক আসছো প্রেমিক" বলেই বেত জোড়া দিয়ে সপাং সপাং করে পাছায় লাগিয়ে দেয়। প্রেমিক মানুষ। না পারি প্রেমিকার সামনে কান্না করতে না পারি সইতে।পুরো ক্লাশ আমার মাইর দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পরেছিলো। দোয়া করি সবগুলা পোলার বউ যেন মুটকী হয়। আর সব মাইয়াগুলার জামাই যেন টাকলা হয়। এটাই ছিলো সবচেয়ে লজ্জাজনক ঘটনা।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ