সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

মূর্তি তৈরীতে কেন পতিতালয়ের মাটি ব্যবহার করা হয়? - শাওন সিকদার

পতিতালয় নামটা শুনলেই কেমন একটা ভাব চলে আসে। এটা তো নোংরা যায়গা।খারাপ মানুষের পল্লী। চোখের সামনে ভেসে উঠে কিছু মেয়ের ছবি যারা অশালীন কাজে ব্যাস্ত।



কিন্ত হিন্দুধর্মে আলাদা একটা লজিক আছে।আর লজিকটা খুব ইন্টারেস্টিং। পতিতাপল্লী কেন পতিতাপল্লী?পতিতা কারা বানায়?পতিতাপল্লীতে কারা যায়?আমরা ভালোমানুষের লেবাস পরিহিত পুরুষেরা।যদি সেখানে পুরুষ না যেত তাহলে সেটা পতিতালয় হতো না। কোন মেয়ে নিজে নিজে পতিতা হতে পারে না, কোন পুরুষ বা আমরা পুরুষেরা তাদের পতিতা বানাই। হিন্দুধর্মে বিশ্বাস করা হয় একজন পুরুষ যখন পতিতালয় যায় তখন তার জীবনের সমস্ত পূন্য পতিতালয়ে ফেলে আসে।এজন্য পতিতালয়ের মাটি পবিত্র,শুদ্ধ।পতিতালয়ের মাটি পূন্যতে ভরা।এজন্য পতিতালয়ের মাটি দিয়ে সম্পূর্ণ না হলেও আংশিক ভাবে ত্রিনয়না কে গড়তে হয়। ত্রিনয়নার কাছে সবাই সমান।পতিতা দের নিচু করে দেখেন না।পতিতারা কেউ ইচ্ছে করে পতিতা হয় না। হয়তো আপনার আমার মতো কোন পুরুষের পাল্লায় পরে সে পতিতা হয় নইলে জীবন তাকে বাধ্য করে।ত্রিনয়নার কাছে পতিতারা এজন্য আরো উচ্চ স্তরে আছে।



তবে এর পিছনে একটি পৌরাণিক কাহিনিও আছে। পুরাণে বলা আছে, ঋষি বিশ্বামিত্র যখন ইন্দ্রত্ব লাভের জন্য কঠোর তপস্যা করছিলেন, তখন তাঁর ধ্যান ভাঙাতে উঠেপড়ে লাগেন দেবরাজ ইন্দ্র। স্বর্গের অপ্সরা মেনকাকে তিনি ঋষির ধ্যানভঙ্গের জন্য পাঠান। অপ্সরার নাচে বিশ্বামিত্রের ধ্যান ভেঙে যায়। রাজর্ষির মতো একজনের ধ্যান ভাঙানো খুব একটা সহজ কাজ নয়। দেবরাজ নিজে তা পারেননি। অথচ এক অপ্সরা অবলীলায় সেই কঠিন কাজ সম্পন্ন করেন। হোক না স্বর্গের, তবু মেনকা তো আর সতী রমণীর পর্যায়ে পড়েন না।


অকালে মহামায়া মোট ন’টি রূপে পূজিত হন। এই নবম কন্যাই হলেন পতিতালয়ের প্রতিনিধি। অষ্টকন্যার পর শেষ পুজোটি তাই পায় তারাই। সমাজ যাদের কোণঠাসা করে রাখে সারাবছর, দেবীবন্দনায় তারাই পূজিত হন মানুষের মনে।


ধন্যবাদ।


লেখাঃ শাওন সিকদার


৩/১০/২০২১


৬ঃ৫০PM

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ