সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

প্রাক্তন কে কীভাবে ভুলে থাকবো?- শাওন সিকদার

 আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি পড়েছেন?এই তত্ত্বের মূলকথা কী জানেন? দুনিয়ার সব কিছুই আপেক্ষিক,কোন কিছুই পরম নয়।



যারা কখনোই কাউকে ভালোবাসেন নি তারা হয়তো আমার উত্তরটা বুঝতে পারবেন না।অনেকে দেখলাম অনেক রকম পরামর্শ দিলো।জাস্ট ভুলে যান।যে চলে গেছে তাকে মনে রাখার কি দরকার। নতুন খুজে নিন।ক্যারিয়ারে ফোকাস করুন।বহুত পরামর্শ। তো আমার প্রশ্ন হচ্ছে আসলেই কি ভুলে থাকা যায়?প্রাক্তন কি একটা আসবাব পত্র?নাকি কোন খেলনা?হারিয়ে গেলো আর ভুলে গেলাম?কাউকে কখনো মন থেকে ভালোবেসেছেন তো?কাউকে মন থেকে ভালোবাসুন, বুঝবেন।প্রাক্তন একটা মায়ার নাম, যেই মায়া কখনো কাটানো যায় না।কেউ সারাজীবন লাগিয়ে দেয় প্রাক্তন কে ভুলতে?তাদের কান্ডকারখানা দেখলে হাসি পায় আমার। আদৌ কি সম্ভব হয় প্রাক্তন কে ভুলে যাওয়া?


জানেন, সারাদিন হাসিখুশি থাকি, সব ভুলে যাই, কত কাজে নিজেকে ব্যাস্ত রাখি,দুনিয়ার পরামর্শ কাজে লাগাই তবুও কীভাবে যেন বহুকাল আগে হৃদয়ে কবর দেওয়া প্রিয়তমা নামের ফুলটা কবরের বুক চিরে খানিকের জন্য বেরিয়ে আসে।আলতো করে উকি দেয় আমার হৃদয়ের দুনিয়ায়। যেই দুনিয়াটা কারো জন্য স্বপ্নের মতো সজ্জিত করেছিলাম। তখন কি হয় জানেন?সব কিছু থমকে যায় ক্ষনিকের জন্য।একটু সময়ের জন্য হলেও চোখের বাধ ভেঙে যেতে যায়। অব্যক্ত সব অভিযোগ, না বলা সব কথা,অপ্রকাশিত সব ইচ্ছেরা চোখের পানি হয়ে ঠেলেঠুলে বের হয়ে আসতে চায়।তখন দাত দিয়ে জোড়ে ঠোঁট কামড়ে ধরি।কয়েকমুহূর্তে নিজেকে সামলে নিয়ে আবার সবাইকে বলা শুরু করি, আরেহ যে চলে গেছে তাকে ভুলে যাও। ক্যারিয়ারে ফোকাস করো। নতুন একটা খুজে নেও।দুনিয়ার যত পরামর্শ সম্ভব সব দেওয়া শুরু করি।


এটা শুধু আমার ঘটনা নয়।প্রতিটি মানুষের ঘটনা যারা আপনাকে প্রাক্তন কে ভুলে যাওয়ার উপায় বাতলাচ্ছে। আর এটা ছাড়া তাদের করার ই বা কী আছে?তারা নিজেরাও সন্দীহান কীভাবে ভুলে যাবে।হয়তো শেষ বয়সে কোন এক বিকেলে নাতিপুতি দের নিয়ে খেলায় মত্ত থাকবেন।হঠাৎ সব থমকে দিয়ে প্রাক্তন নামের মায়াটা জেগে উঠবে।মনে হবে সেদিন কেন আরেকটু চেস্টা করিনি।আরেকটু চেস্টা করলে হয়তো সে আমার হতো।ইচ্ছে করবে সব ঠেলেঠুলে তার পানে ছুটে যাই।সব বাধা অতিক্রম করে তাকে গিয়ে বলি, আজও ভালোবাসি প্রিয়।কিন্ত বয়স যে শেষ। এখন আর কী করার?দম আটকে মনের ভেতর চাপা দিতে হবে সব অনুভূতি। তারপর আবার জীবন আগের গতিতে চলতে শুরু করবে।চাইলে তাকে ভুলতে বাংলার মাটি ছেড়ে সুদূর ইউরোপে চলে যাবেন অজিদের দেশে।কোন সমুদ্র সৈকতে গিয়ে মনে হবে এবার সব ভুলে থাকা যাবে অন্তত। কিন্ত দেখবেন ঠিকই সে চলে এসেছে আপনার মনের দোড়গোড়ায়, মরে যাওয়া স্মৃতিগুলোকে একটু নাড়াচাড়া দিয়ে বাচিয়ে তুলার জন্য।কিংবা চাদে যেতে পারেন।রকেটে করে।চাদেও আপনার পিছু ছাড়বেনা সে।হয়তো একটা কাজ করলে আপনি তাকে ভুলে থাকতে পারবেন কিছুক্ষনের জন্য।তবে জানেন ই তো সবই আপেক্ষিক। সেই পদ্ধতিকে হার মানিয়ে সে ঠিকই আপনার মনে চলে আসবে।প্রাক্তন ঠিকই আপনার মনের দোড়গোড়ায় কড়া নাড়বে আর এটাই একমাত্র পরম জিনিস।


#অসমাপ্ত


অনুভূতিরা স্বর্গ থেকে আসে।এদের লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।আমার লেখার সাথে অনুভূতি মিশে আছে।আপনিও অনুভূতি দিয়ে পড়ুন।তবেই হয়তো মর্মার্থ বুঝতে পারবেন।এই লেখার আক্ষরিক অর্থ নেই বললেই চলে।কেবলই অনুভূতি। অনুভূতিদের যতই লিখবেন মনে হবে আরো লেখা যেত,কি যেন বাকি রয়ে গেছে,লেখাটা অসমাপ্ত।



মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ