সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

কতখানি পড়াশোনা করলে শিক্ষিত হওয়া যায়? -শাওন সিকদার

 এনাকে চিনেন?ইনি দেবেন্দ্র কাপারি! পেশায় একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার! ২০১৭ এর খবর এটা

৩ মে ২০১৭ দুপুর বেলা। দিল্লি এয়ারপোর্টের কাছে পুলিশ স্টেশনের সামনের রাস্তায় পায়চারী করছিলো লএকজন ট্যাক্সি ড্রাইভার। তার নাম দেবেন্দ্র কাপরি।

সন্ধ্যেবেলা দেবেন্দ্র থানায় ফিরে আসে বিশাল এক স্যুটকেস নিয়ে। সেটি খুলে দেখে ডিউটি অফিসারের চোখ তো ছানাবড়া! এই স্যুটকেসে ছিলো একটা ল্যাপটপ, ক্যামেরা, আইফোন, নগদ ক্যাশসহ আরো অনেক কাপড়চোপড় ও কাগজপত্র।

এয়ারপোর্ট থেকে পাহাড়গঞ্জে একজন কাশ্মিরী যাত্রীকে নামিয়ে দিয়েছে দেবেন্দ্র। সেই ভুল করে ফেলে গিয়েছিলো এই স্যুটকেস। এরপর যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে দেবেন্দ্র। অপেক্ষার এক পর্যায়ে সে একটু ঘুমিয়েও নেয়। কাছেরই এক গ্রামে সে থাকে। এরপর আবার এয়ারপোর্টের কাছের ট্যাক্সিস্ট্যান্ডে চলে আসে সে।

এরপর উপায়ন্তর না দেখে সে স্যুটকেস নিয়ে সোজা চলে যায় পুলিশ স্টেশনে। ডিউটি অফিসার স্যুটকেসে পাওয়া একটি নাম্বারে ফোন দিয়ে জানতে পারে, লোকটি সেই কাশ্মিরী যাত্রীর ভাই। পরে তার কাছেই জমা দেয়া হয় সেই স্যুটকেস।

২০২০ এর জানুয়ারি মাসের খবর এটা!

এই পি কে হালদার

জন্ম পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার দিঘিরজান গ্রামে। বাবা প্রয়াত প্রণনেন্দু হালদার ও মা লীলাবতী হালদার। তাঁর মা ছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পি কে হালদার ও প্রিতিশ কুমার হালদার—দুই ভাই–ই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে ব্যবসায় প্রশাসন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে কমপক্ষে চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) মালিকানায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসে। সেই চার প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা এখন চরম খারাপ। একটি বিলুপ্তের পথে, বাকি তিনটিও গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না।

নানা কৌশল করে এসব প্রতিষ্ঠান দখল করেছেন মূলত একজন ব্যক্তি। প্রতিষ্ঠান দখল করার জন্য নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলেছেন, শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কিনেছেন, দখল করা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে টাকাও সরিয়েছেন। এমনকি দেশের বাইরেও কোম্পানি খুলেছেন।

আর এই ব্যক্তি হলেন প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার। প্রতিষ্ঠানগুলো দখলের সময় পি কে হালদার প্রথমে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পরে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন। আর এসব কাজে তাঁকে সব ধরনের সমর্থন ও সহায়তা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন—এই দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার চোখের সামনেই সবকিছু ঘটেছে।

এখন পি কে হালদার পলাতক। আর আমানতকারীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন টাকা ফেরত পাওয়ার আশায়। প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৮ জানুয়ারি পি কে হালদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এতকিছু দ্বারা একটা সিম্পল কথা বুঝাতে চাই। পড়ালেখা করা মানেই শিক্ষিত না। পড়াশোনা না করা ট্যাক্সি ড্রাইভারের শিক্ষা আর বুয়েটে পড়া পি কে হালদারের শিক্ষা সমান না। কিন্ত এখানে কোনটাকে শিক্ষা বলবেন আপনি? সত্যি বলতে শিক্ষা হলো নিজের ভেতর। আপনি না পড়েও শিক্ষিত হতে পারেন আবার অনেক পড়েও অশিক্ষিত থাকতে পারেন। পুরোটা আপনার উপর।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ