সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

উদ্যোক্তা ও বাংলাদেশ, তিক্ত সংস্কৃতি - শাওন সিকদার

 (১)==>

সামিউল ইসলাম তৌসিফ ভাইয়ের কোরা ইউজারস নামের গ্রুপে অনেক কোরা ব্যবহারকারী আছেন।তো তাদেরকে একবার একটা প্রশ্ন করেছিলাম তোমাদের কার জীবনের লক্ষ্য কী?কোরা ইউজারস গ্রুপে ক্লাশ ৫-১০ এর অনেক বাচ্চা পোলাপান আছে।তো তাদের অধিকাংশের উত্তর ছিলো আমরা গুগলে জব করতে চাই। কেউ বা সরকারি চাকরি করতে চায়।

প্রশ্ন হলো আপনি হলে কি উত্তর দিতেন?আপনারা জীবনের লক্ষ্য কী?

(২)==>

ধরুন আপনাকে আমি চারটা অপশন দিলাম,

১)গুগল/ফেসবুক/মাইক্রোসফটে চাকরি

২)সরকারি চাকরি

৩)ব্যবসায়ী

৪)বিসিএস ক্যাডার

আপনি কোনটা সিলেক্ট করবেন?যারা প্রোগ্রামিং জানেন তারা হয়তো গুগল,ফেসবুক কিংবা মাইক্রোসফটে চাকরি বেছে নিবেন।যারা মোটামুটি শিক্ষিত তারা অবশ্যই সরকারি চাকরি বেছে নিবেন। আর যাদের প্রচন্ড লেবেলের ধৈর্য আর মেধা আছে তারা হয়তো বিসিএস ক্যাডার এর পদ বেছে নিবেন। না নেওয়ার কোন কারণ নেই নেওয়ারই কথা।এগুলো করলে মাস শেষে মোটা অংকের টাকা,সামাজিক স্টাটাস,সুন্দরী বউ সব আপনার পায়ের কাছে থাকবে। দুনিয়ার অন্যতম সুখী মানুষে পরিনত হবেন।এর বেশি আর কি চাই?

(৩)==>

বাবা মারা যাওয়ার মাস ছয়েক পরেই আমার মা থেকে শুরু করে আমার সব আত্মীয় স্বজন আমাকে চাপ দিতে শুরু করে চাকরি করার জন্য। বাবা মারা যাওয়ার পর প্রথমেও সবাই চাপ দিতো তার যায়গায় আমি কাজে যাওয়ার জন্য।মাস শেষে ৩০,০০০ টাকা বেতন।এর চেয়ে কি আর চাই। কিন্ত আমাকে কী ভূতে ধরেছিলো জানিনা ওই জব টা আমি করিনাই। যাই হোক এখন সবাই আবার আমাকে প্রেশার দিতেছে সরকারি চাকরী করার জন্য। পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এসবে লোক নেওয়া হচ্ছে আমি ঢুকে যাই না কেন। সরকারী চাকরি, মাস শেষে মোটা অংকের বেতন।তাও কেন আমি ঢুকতেছিনা।

(৪)==>

আজকে হুট করেই আমার মাথায় একটা প্রশ্ন জাগে মেসেঞ্জার, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং সফটওয়্যার গুলো আসলে আয় কীভাবে করে?মেসেঞ্জার হালকা পাতলা এড দেখায় কিন্ত টেলিগ্রাম হোয়াটসঅ্যাপ এরা আয় করে কীভাবে?তো আমি ভাবলাম গুগল করা যাক।কিন্ত গুগল করে যা রেজাল্ট পেলাম নিচে দেখুন।

আপনাদের কাছে চারটা পয়েন্ট উপস্থাপন করলাম। ৪ নাম্বারে দেখুন যদিও আমি সার্চ দিয়েছি টেলিগ্রাম কতৃপক্ষ আয় কীভাবে করে সেটা জানার জন্য কিন্ত আমাকে দেখানো হচ্ছে আমি কীভাবে টেলিগ্রাম এপ ব্যবহার করে আয় করবো।ক্যাপশন গুলোও আকর্ষনীয়, "দেখুন টেলিগ্রাম এপ ব্যবহার করে কীভাবে আয় করবেন?"," টেলিগ্রাম থেকে আয়ের ১০ টি উপায়"। আসলে বাংলাদেশের এই জিনিসটা আমার কাছে খুব খারাপ লাগে।আমাদের শেখানো হয় কীভাবে আমরা টেলিগ্রাম থেকে আয় করবো কিন্ত এটা শেখানো হয়না কীভাবে আমরা নিজেরাই টেলিগ্রাম তৈরী করবো। টেলিগ্রাম থেকে কীভাবে আয় করবেন এ সম্পর্কিত হাজার হাজার আর্টিকেল পেয়ে যাবেন কিন্ত কীভাবে আপনি টেলিগ্রাম এর মতো প্লাটফর্ম গড়বেন সে সম্পর্কে মানসম্পন্ন একটা আর্টিকেল পাবেন কিনা শিওর না। আমরা সেই দেশে বাস করি যেখানে টেলিগ্রাম থেকে আয়ের স্বপ্ন দেখানো হয় টেলিগ্রাম তেরীর না।আমরা সেই দেশে বাস করি যেখানে নাসা ঘুরিয়ে দেখানোর স্বপ্ন দেখানো হয় নিজেদের দেশে নাসা তৈরীর না।আমাদের দেশে স্বপ্ন দেখানো হয় গুগল ফেসবুকে কাজ করার কিন্ত গুগল ফেসবুক তৈরী করার স্বপ্ন দেখায় না কেউ। আমাদেরকে ফাইভারে টপ রেটেড ফ্রীল্যান্সার হওয়ার স্বপ্ন দেখানো হয় একটা ফাইভার তৈরীর স্বপ্ন দেখানো হয় না।আমরা আমাজনে এফিলিয়েট মার্কেটিং করার স্বপ্ন দেখি আমাজন তৈরীর স্বপ্ন দেখিনা কেউ।

আমাদের বাংলাদেশে সফলতা মানে একটা সরকারি চাকরি।মাস শেষে মোটা অংকের টাকা।এগুলোকেই সফলতার মানদন্ড হিসেবে বোঝানো হয়।আফসোস বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় মেধাবীদের বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখানো হয় কোন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখায় না কেউ কোনদিন।

একটা দেশে সেই মানুষটার সুনামে ভরে যায় যে মানুষটা গুগলে চাকরি পায়,যে মানুষটা মাইক্রোসফটে চাকরি পায়,যে মানুষটা ফেসবুকে চাকরি পায়।সব আলোচনা কল্পনা গল্প সব তাকে ঘিরে।কিন্ত যেই মানুষটা আরেকটা ফেসবুক তৈরীর কল্পনা বা পরিকল্পনা করে সে পরে থাকে অলি গলির চিপায় চাপায়। যেখানে যত সংখ্যক মানুষ ওই ফেসবুকে চাকরি পাওয়া লোকটার সুনাম করে তার অর্ধেক সংখ্যক মানুষ চাইলেই আরেকটা ফেসবুক তৈরীর পরিকল্পনাকে সফল করতে পারে।

আমাদের দেশের একটা জেনারেশন বেড়েই উঠছে গুগল মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানির কামলা খাটার স্বপ্ন নিয়ে। এটাই তাদের সফলতা। এটাই জীবনের অর্জন। এটাই সাফল্যের মাপকাঠি। আমরা এমন একটা জেনারেশন তৈরী করতে পারিনা যারা বেড়ে উঠবে গুগল মাইক্রোসফট তৈরী করার স্বপ্ন নিয়ে।২০০ বছরের সাম্রাজ্যে ইংরেজরা বাঙালীর মাথায় অন্যের কামলা খাটার যে ভূত ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে তা আজ বাঙালীর জিনগত বৈশিষ্ট হয়ে গেছে।অন্যের কামলা খাটা ছাড়া কিছুই ভাবতে পারেনা।বাবা মায়েরা সন্তানদের এটা বোঝাতে ব্যাস্ত যে বড় হয়ে সরকারি চাকরি করলেই তুমি সফল,বিসিএস ক্যাডার হলেই সফল,গুগল ফেসবুকে জব পেলেই তুমি সফল।কেউ তার সন্তানদের এটা শেখায় না " যদি তুমি অন্যের চাকরি করে মাস শেষে কোটি টাকা কামাও তবুও দিনশেষে তুমি অন্যের অধীনে থাকা একজন কর্মচারী। এটা সফলতা না।তুমি নিজের প্রতিষ্ঠানে যদি ১ টাকা ইনকাম করো এই এক টাকাই তোমার সফলতা অন্যের কামলা দিয়ে কামানো কোটি টাকা তোমার সফলতা না।"

বাংলাদেশের এই জিনিসটা আমার আন্তরিক ভাবে খারাপ লাগে।

লেখকঃ শাওন সিকদার

২২/৯/২০২১

৪ঃ৪৫ PM 


মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ