সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

মোবাইলে কেন বুলেটপ্রুফ কাচ ব্যবহৃত হয় না? শাওন সিকদার

 ইদানীং স্মার্টফোন, স্মার্ট টিভি, ল্যাপটপ ইত্যাদি প্রায় সবেতেই একটি বিশেষ ধরনের গ্লাস ব্যবহার করা হয়। গ্লাসের নাম হলো গরিলা গ্লাস। আমেরিকান কোম্পানি করনিং আইএনসি (Corning Inc) এই গরিলা গ্লাসের উদ্ভাবক।

গরিলা কাচের আসল নাম ‘অ্যালুমিনোসিলিকেট’ (Aluminosilicate) — সাধারণ যে কোনও কাচের মতো এটিও তৈরি করা হয় মূল উপাদান বালি বা স্যান্ড থেকে। তাছাড়া এই গ্লাসে ব্যবহার করা হয় অ্যালুমিনিয়াম, সিলিকন, এবং অক্সিজেন। গ্লাসটির প্রয়োজনীয় মডেল তৈরি করে নেওয়ার পরে একে ৪০০ ডিগ্রী সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রার গলিত লবণ মিশ্রণের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পর নানা রকম রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলেই গরিলা গ্লাস অন্যান্য কাচের তুলনায় আরও শক্তিশালী এবং নমনীয় হয়ে ওঠে।

২০০৮ সালে ফার্স্ট জেনারেশন করনিং গরিলা গ্লাস তৈরি করা হয় এবং পরে ২০১২, ২০১৩, এবং ২০১৪ সালে এর মধ্যে প্রযুক্তিগত অনেক উন্নতিসাধন করা হয়। ২০১৬ সালের জুলাই মাস নাগাদ দিকে এই গরিলা গ্লাসের ফিপ্ত (৫ম) জেনারেশন বাজারে আসে।

এবার আসি মোবাইলে বুলেটপ্রুফ কাচ ব্যবহার না করে কেন গরিলা কাচ ব্যবহার করা হয়?

  • প্রথম কারণ হচ্ছে এর পুরুত্ব। কোম্পানির বোস্টনে প্রদর্শিত কাচের পাতটি ঠিক এক চিলতে কাগজের শিটের মতো দেখতে। এর পুরুত্ব মাত্র ০.০৫ মিলিমিটার। ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহৃত অধিকাংশ গরিলা কাচের পুরুত্ব ০.২ এবং ০.৫ মিলিমিটার এর মধ্যে হয়। শুধু পুরুত্বের জন্য তো ব্যবহার করা হয় না। এমন তো অনেক কাচই আছে। তবে এদের মধ্যে গরিলা কাচই এত কম পুরুত্ব হওয়া সত্বেও সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা প্রদান করে অর্থাৎ এই পুরুত্বের সবচেয়ে শক্ত কাচ বলা চলে এটাকে।

  • পক্ষান্তরে বুলেটপ্রুফ কাচ হলো একটি যৌগিক পদার্থ যা কাচের বিশেষ প্রক্রিয়াকরণ (বা প্লেকজিলেস) যা উচ্চমানের প্রকৌশলবিদ্যা দ্বারা প্রাপ্ত।
  • বুলেটপ্রুফ কাচের আসল নাম হলো “লেমিনেটেড কাঁচ”, যা সহজে ভাঙে না। কাঁচের ভেতরের স্তরে পলিভিনাইল বিউটেরাল (Polyvinyl butyral) অথবা ইথিলিন-ভিনাইল অ্যাসিটেট (Ethylene-vinyl acetate) দেওয়া থাকে, এজন্য এ ধরণের কাঁচ সহজে ভাঙে না, আর ভেঙে গেলেও সহজে বিচ্ছিন্ন হয় না। এগুলি তৈরী করা হয় লেমিনেটেড কাঁচের আস্তরণ দিয়ে, যত বেশি আস্তরণ তত বেশি মজবুত।

ভাবতে পারেন? যেখানে আপনি এখন.০.২ -০.৫ মিলিমটার পুরু কাচ ব্যবহার করছেন সেখানে যদি ৭-৭৫ মিলিমিটার পুরু কাচ এনে বসিয়ে দেই এই মোবাইল আপনি আর চালাবেন? এটা তো টাচস্ক্রীন মোবাইল ই থাকবে না আর। একটা কাচের টুকরায় পরিনত হবে।

আরেকটা কারন হচ্ছে মূল্য। মানের উপর ভিত্তি করে গেরিলা কাচের বিভিন্ন ধরন আছে। একেকটার মূল্য একেকরকম। এরকম কিছুর দামের তালিকা

গোরিলা গ্লাস থ্রিঃ গোরিলা গ্লাসের মধ্যে বাজারে বহুল ব্যাবহৃত গোরিলা গ্লাস থ্রি। এটি এখন গনহারে প্রায় সব ফোনেই ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। গোরিলা গ্লাস থ্রি এর দাম পড়বে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এই গ্লাসের প্রোটেকশন মোটামোটি ভালোই।

গোরিলা গ্লাস ফোরঃ বাজারে গোরিলা গ্লাস থ্রি এর আপডেট ভার্সন হিসেবে গোরিলা গ্লাস ফোর বাজারে এসেছে। বেশ কিছু মিড বাজেট ফোনে গোরিলা গ্লাস প্রোটেকশন ফোর ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। গোরিলা গ্লাস ফোরের দাম প্রায় ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা।

গোরিলা গ্লাস ফাইভঃ বাজারে মিড বাজেট আবার হায়ার মিড বাজেটের অনেক ফোনে গ্লাস প্রোটেকশন ফাইভ ব্যাবহার করা হয়। গোরিলা গ্লাস ফাইভকে শক্তিশালী গ্লাস প্রোটেক্টর বলা হয়ে থাকে। বাজারে গোরিলা গ্লাস ফাইভের দাম পড়বে প্রায় ১৭০ থেকে ২০০ টাকা।

গোরিলা গ্লাস সিক্সঃ বর্তমান বাজারে সর্বশেষ আপডেট গোরিলা গ্লাস সিক্স। হায়ার মিড বাজেট থেকে ফ্লাগশিপ ফোনের ক্ষেত্রে এই গ্লাস প্রোটেকটর ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। বাজারে গোরিলা গ্লাস সিক্সের দাম পড়বে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।

আর অন্যদিকে বুলেটপ্রুফ কাচের দাম প্রতি স্কয়ারফুটে ইন্ডিয়ান রুপিতে প্রায় ২০০০০ রুপি লাগবে। সূত্রঃ Bullet Resistant Glass

সব কোম্পানির মূল উদ্দেশ্য থাকে মুনাফা অর্জনের যেটা এভাবে কখনোই সম্ভব না।

এজন্যই হয়তো কোন মোবাইলে বুলেটপ্রুফ কাচ ব্যবহার করা হয়না। ধন্যবাদ।

© শাওন সিকদার

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ