সাম্প্রতিক লেখাসমূহ
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
দেশের বাইরে কীভাবে পড়তে যাবো? বেসিক রোডম্যাপ - শাওন সিকদার
প্রথমেই আসি অন্য দেশে কেন পড়বো?
আপনার কাছে যদি দুটো অপশন থাকে এক. দেশের ভার্সিটিতে পড়া আর দুই. দেশের বাইরে পড়া। আমি আপনাকে স্ট্রংলি রিকমান্ড করবো দেশের বাইরে চলে যান! এতে কি উপকার হবে?
প্রথমত দেশের ঝামেলা থেকে বেচে যাবেন। গবেষণার জন্য যথেষ্ট বরাদ্দ না থাকা, থাকা খাওয়া ঝামেলা, সেশন জট, নির্মম ছাত্র রাজনীতি, চাকরির জন্য দৌড়াদৌড়ি, রাস্তাঘাটে হওয়া প্রব্লেম থেকে শুরু করে প্রব্লেমের কোন শেষ নেই।
আর বাইরে গেলে কি কি সুবিধা পাবেন? সেশনজট বা ছাত্ররাজনীতি কিংবা চাকরির জন্য দৌড়াদৌড়ি কোন প্রব্লেম ই থাকবে না! উপরের সব সমস্যার এক কথায় সমাধান পাবেন!
বাংলাদেশের ভার্সিটি এমনকি বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ডিএমসি এগুলার কোনটাই ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং এ নেই। থাকলেও খুব নিম্ন অবস্থায়! দেশের কথা না ভেবে যদি বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার চেস্টা করেন তাহলে বাইরে যাওয়াই বেটার হবে। কারণ ঢাবি বা বুয়েটে ভর্তির জন্য যে পরিমান এফোর্ট আমরা তার চেয়ে কম এফোর্ট দিয়েও টপ র্যাংকড ভার্সিটিতে পড়া যায়!
এবার আসি, এইচ এস সি এর পর বাইরে পড়তে কি কি লাগবে?
- এইচ এস সি এর পর দেশের বাইরে পড়তে চাইলে প্রথমেই আপনার যেটা লাগবে সেটা হচ্ছে অন্য দেশে মানিয়ে নেওয়ার অদম্য মানসিকতা। যে যাই বলুক এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চিন্তা করুন নিজের বাসা থেকে অন্য কোথায় কদিনের জন্য বেড়াতে গেলেও কেমন মন চায় যে ছুটে আবার বাসায় চলে আসি! আর ভিন্ন একটা দেশে ৩-৫ টা বছর একা একা থেকে, ভিন্ন ভাষায়, ভিন্ন ধরনের মানুষজনের সাথে থেকে পড়াশোনা করা কিন্ত সহজ কোন কাজ না! অনেকেই মাঝপথে ঝড়ে যায়। নিজেকে বুঝান কেন আপনি যেতে চাচ্ছেন! স্ট্রং কোন কারণ দেখান নিজেকে! প্রচন্ড মানসিক শক্তি ছাড়া সম্ভব না!
- এবার দরকার আপনার ভালো একাডেমিক রেজাল্ট! আপনার কি এস এস সি আর এইচ এস সি এর একাডেমিক রেজাল্ট ভালো? তাহলে আপনার চান্স পাওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যাবে!
- এর পরের কাজ হলো পাসপোর্ট করে ফেলবেন! সঠিক ইনফরমেশন দিয়ে ৫-১০ বছর মেয়াদি একটা পাসপোর্ট করে ফেলবেন। খেয়াল রাখবেন সার্টিফিকেট এর ইনফরমেশন আর পাসপোর্ট এর ইনফরমেশন যেন সেইম হয়!
- এবার IELTS, SAT, TOFEL, DUOLINGO এর মতো এক্সাম গুলো দিয়ে ফেলুন। আপনি যে ভার্সিটিতে পড়তে চান সে ভার্সিটির ওয়েবসাইটে গিয়ে চেক করুন তারা কোনটা এপ্রুভ করে। সেই এক্সাম দিয়ে ফেলুন। আর এসব এক্সাম কিন্ত পাসপোর্ট ছাড়া দেওয়া যায় না! আর স্কোর কিন্ত ভালো করতে হবে। নইলে স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।আমার রিকমান্ডেশন IELTS দেন এটা বেশিরভাগ যায়গায় ই এপ্রুভড। IELTS এর জন্য 6.5/9 হলো সেইফ জোন। মিনিমাম এতটুকু পেলে আপনি সেইফ জোনে আছেন! DUOLINGO এর জন্য 110/160 সেইফ জোন। সবগুলোর জন্যই এমন ঠিক করা আছে। একটু গুগল করলেই পেয়ে যাবেন। আর হ্যা কোন এক্সাম ই ফ্রী না। যেই এক্সাম ই দেন টাকা দিয়ে দিতে হবে!
IELTS দেওয়া হয়ে গেলে এবার হলো ভার্সিটি চুজ করার পালা! আপনি তিনভাবে দেশের ভাইরে যেতে পারবেন।
১) সম্পূর্ণ নিজের খরচে। কোটি কোটি টাকা লাগবে ভাই! আপনার এত টাকা থাকলে যেতে পারেন।
২) আংশিক স্কলারশিপ নিয়ে। এক্ষেত্রে দেখা যাবে আপনার ভার্সিটি আপনার যোগ্যতার উপর ভিত্তি করে আপনার সেমিস্টার ফি ৪০-৫০% মওকুফ করবে! বাকি টাকা আপনাকেই দিতে হবে।
৩)ফুললি ফান্ডেড স্কলারশিপ! এটা পাওয়া সহজ আবার কঠিন। আপনার কাছে যত তথ্য আছে আপনার জন্য তত সহজ! ফুললি ফান্ডেড হলে আপনার সেমিস্টার ফি তো দিবেই সাথে হাত খরচ, থাকা খাওয়ার খরচ থেকে সব দিবে। ভাবা যায় বিদেশের মাটিতে কেউ আমাকে লাখ লাখ টাকা দিচ্ছে আমার পড়াশোনার জন্য!
এগুলোর জন্য আপনাকে সিলেক্ট করতে হবে আপনি কোন দেশে যেতে চান! যেমন আমার জার্মানিতে যাওয়ার ইচ্ছে আছে! জার্মানিতে ফুল ফ্রী স্কলারশিপ, পার্ট টাইম জব, বিশ্বমানের পড়াশোনা সব আছে। এজন্য জার্মানির একটা স্পেশাল রিকয়ারমেন্ট আছে। সেটা হলো বাংলাদেশ থেকে এক বছর অনার্স করে ২৫% ক্রেডিট সম্পন্ন করে যেতে হবে। এবার আপনি চুজ করবেন কোন দেশের কোন ভার্সিটিতে পড়তে চান!সেখানকার কি কি রিকয়ারমেন্ট। হয়তো জার্মানির মতো কোন স্পেশাল রিকয়ারমেন্ট থাকতে পারে। এজন্য আপনাকে প্রচুর ইন্টারনেট ঘাটতে হবে! সব ভার্সিটির ওয়েবসাইটে গিয়ে চেক করতে হবে। কারা কোন ডিগ্রি দিচ্ছে, কারা কত % স্কলারশিপ দিচ্ছে এগুলো ভার্সিটির ওয়েবসাইটে নিয়মিত আপডেট হয়! অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, যেমন রাশিয়া বা তুরস্ক তাদের দেশের অধিকাংশ কোর্স তাদের নিজেদের ভাষায়। সেসব দেশে আপনি ১০০% স্কলারশিপ পেলেও নতুন একটা ভাষায় একটা ডিগ্রি নেওয়া সম্ভব হবে কি না এসব ও চিন্তাভাবনা করার বিষয়। আর এই বিষয়গুলো সম্পূর্ণ আপনাকে নিজে চিন্তাভাবনা করে বের করতে হবে। কেউ আপনাকে বলে যাবে না! প্রথমে সেট করুন কোন দেশে কোন সাব্জেক্টে পড়তে চান। এরপর লেগে পড়ুন গবেষণায়।
- কোন দেশের কোন ভার্সিটিতে পড়বেন সেটা সিলেক্ট করা হয়ে গেলে, তারা যেসব কাগজপত্র যায় সব কিছু গুছিয়ে এপ্লাই করে ফেলুন। যেভাবে তারা চায় সেভাবেই। এই যায়গায় অনেক কিছু বলার আছে, একটা পোস্ট এ বলা সম্ভব না। আপনি যখন খোজ নিবেন নিজে নিজেই জেনে যাবেন। ভাগ্য ভালো হলে সর্বোচ্চ দু মাসের মধ্যেই আপনার স্বপ্নের ভার্সিটি থেকে কনফার্মেশন লেটার পেয়ে যাবেন!
- কনফার্মেশন লেটার বা অফার লেটার হলেই আপনার কাজ সে দেশের এম্বাসি তে যোগাযোগ করা। সে দেশের এম্বাসিতে মেইল করে ভিসার জন্য এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে ফেলুন। ভাইভা দিয়ে ভিসা কনফার্ম হলে কাজ শেষ। মাল পত্র গুছিয়ে উড়াল দিবেন প্রবাস জীবনের উদ্দেশ্যে।
আর কোন প্রশ্ন থাকলে আমাকে করতে পারেন। ধন্যবাদ।
কোন দেশে কোন ভার্সিটি কি স্কলারশিপ দিচ্ছে এ সম্পর্কে আপডেট পেতে আমার টেলিগ্রাম চ্যানেলে জয়েন করতে পারেন। লিংকঃ It's Shaon
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
জনপ্রিয় লেখাসমূহ
স্বপ্ন কীভাবে মিলে যায়? স্বপ্নের আদ্যোপান্ত - লেখাঃ শাওন সিকদার
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
উদ্ভাসে পড়লেই বুয়েটে চান্স পাওয়া যায়? লেখাঃ শাওন সিকদার
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
বাটারফ্লাই ইফেক্টের ১৪ গোষ্ঠী - শাওন সিকদার
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
আমাদের ব্যক্তিত্বের কোন দিক পরিবর্তন করা সবচেয়ে কঠিন? - শাওন সিকদার
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
জীবনে উন্নতির আসল মানে কী? - শাওন সিকদার
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
মন্তব্যসমূহ