সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

একা একা হাটা কীভাবে উপভোগ করবো? - শাওন সিকদার

ছবিটি দেখে কি ভয় লাগছে? ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই, ভূত বলে কিছুই নেই! প্রশ্নটা আমার এতই পছন্দ হয়েছে সাথে সাথেই উত্তর দিতে বসলাম! আমি ভাবতাম আমিই একমাত্র মানুষ যে এই জিনিসটা উপভোগ করি। যাই হোক জিনিসটা অন্যকেউও উপভোগ করতে পারে জেনে ভালোই লাগলো! এই ছবিটা তুলেছিলাম একজনকে দেখানোর জন্য। রাতের বেলা একলা হাটার মহিমা বুঝানোর চেস্টা করেছিলাম! কিন্ত বেচারা ভূতের ভয়ে কান্নাকাটি করা শুরু করেছিলো, বার বার বলছিলো আমাকে ফেরত আসার জন্য! এত চেস্টা করেও বুঝাতে পারিনি একা একা হাটার মহিমা, উলটা আমাকে ভূতের ভয় দেখাচ্ছিলো! রাতের বেলা এমন একলা পথে হাটা তো ইদানীং আমার শখ হয়ে দাড়িয়েছে! অদ্ভুত কারণে আমার মাঝে ভূত প্রেতের কোন ভয় কাজ করে না! দিন কিংবা রাত যখনি সুযোগ পাই একটু হলেও একা হাটি!

একা একা হাটার মাঝেই অন্য লেবেলের একটা ফিলিংস আছে। রাতের বেলা হলে তো কথাই নেই! আর দিনের বেলা মানুষ না থাকলেও সেই ফিলিংস পাওয়া যায়! একা একা, এক কদম এখানে তো অন্য কদম অন্যখানে, ইচ্ছেমতো, ভবঘুরে হওয়ার ভান ধরা যায়! নিজেকে হিমু ভাবতেও দোষের কিছু নেই, কিংবা বইয়ের পাতার কাল্পনিক কোন চরিত্র! ইচ্ছেমতো নতুন ভাবে, চার পাশের পরিবেশকে আবিষ্কার করা! আশেপাশের গাছগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকা সত্তা ভাবা, যাদের মনে কোন হিংসে বিদ্বেষ নেই, পবিত্র কিছু সত্তা দ্বাড়িয়ে আছে আমাকে বরন করতে! মানুষের মতো লাভ ক্ষতির হিসেবে চলেনা কল্প দুনিয়ার এসব হিসেব। কল্পনার দুনিয়ায় হারাতে মানাতো নেই কোন! ইচ্ছেমতো হারানো যায়। ইচ্ছেমতো নিজেকে, নিজের চারপাশকে নতুন করে আবিষ্কার করার মাঝে যেই আনন্দ, তা বর্ণনার কোন সাহিত্য আমার জানা নেই! আর কি চাই? সেই সাথে যদি নিজের পছন্দের গান গুলো চলতে থাকে, আহা! স্বর্গীয় অনুভূতি চলে আসে। কথায় আছে না, মানুষ কল্পনাতেই সুখী! ব্যাপারটা অনেকটা এমনি! কল্পনাতে ইচ্ছেমতো সুখ কুড়ানো! সত্যিকারের সুখ! নিখাদ আর খানিকটা বাস্তব! এসব পড়ে যারা আমাকে বাচ্চা ভাববেন তাদের বলি, ম্যাচিউর হওয়ার যায়গায় যথেষ্ট ম্যাচিউর আমি। কিন্ত ইচ্ছেমতো সুখ খুজে নেওয়া বাচ্চামি হলেও ভালো! কল্পনা করুন আপনি একা একা হাটছেন! দূর দূরান্তে কেউ নেই। আর আপনার পছন্দের গান বাজছে,

এই অবেলায় তোমারই আকাশে

নীরব আপসে ভেসে যায়

সেই ভীষণ শীতল ভেজা চোখ

কখনো দেখাইনি তোমায়

কেউ কোথাও ভালো নেই যেন সেই

কতকাল আর হাতে হাত অবেলায়

কতকাল আর ভুল-অবসন্ন বিকেলে

ভেজা চোখ দেখাইনি তোমায়

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ