সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

ছোটগল্প - জীবন - শাওন সিকদার

 #৩০০ শব্দের গল্প


---নাম কী?

---রাইশা

---বাবার নাম?

---আবির আদনান

---মায়ের নাম?

---সেটাও বলতে হবে?


একবার তাকালাম মহিলার দিকে।হালকা হাসি দিলাম।এই মূহুর্তে হাসি ছাড়া কোন উত্তর নেই।


কিছুক্ষন পর.....


---ওকে,কাল থেকে ক্লাশে জয়েন করতে পারবে।প্রথম শ্রেণী,রোল ৪৫

---আচ্ছা আসি।

---চলে যাচ্ছেন?


মহিলাটি ফিরে তাকালো.. 


---কিছু বলবেন?

---মেয়ের বাবা আসে নাই?

---উনি ব্যাস্ত থাকে সারাদিন।সময় পায় না।

---এখনো কি ব্যাংকে চাকরি করে?

---নাহ,,বিয়ের কয়েক বছর পর বিসিএস দিয়েছিলো।প্রশাসন ক্যাডারে আছে।

---কিন্ত মেয়ের নাম রাইশা রাখলেন যে?


অদ্ভুত ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকালো।তারপর হালকা হাসি দিয়ে বললো


---কেন?কোন সমস্যা?

---১০ বছর আগে কোন বেকারকে দেওয়া কথা মনে রেখেছেন?

---এইটুকুতো করতেই পারি।


খুব জোর হাসি পাচ্ছে আমার।হাসি আটকে জিজ্ঞেস করলাম....


---আরো তো প্রাইমারী স্কুল আছে।মেয়েকে এইখানেই ভর্তি করালেন যে?


মুচকি হেসে বললো


---একজন ভালোমানুষের কাছে দিয়ে গেলাম,যাতে মেয়েটাও ভালোমানুষ হয়।


এবার আর হাসি আটকাতে পারলামনা


---তো ভালোমানুষকে ছেড়ে গেলেন কেনো?


এতক্ষনের মুচকি হাসি মাখা মুখটা নিমিষে কালো হয়ে গেলো।ছলছল চোখে বললো....


---আমি বাধ্য ছিলাম।


বলেই হনহন করে মেয়েকে নিয়ে লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে গেলো।আমি তাকিয়ে আছি চলে যাওয়ার দিকে।আটকানোর ক্ষমতা নেই।আজ অনেকদিন পর আবার আসলামের কথা মনে পড়লো।এখনো নাম্বারটা সেইভ করা আছে।আসলামকে ফোন লাগালাম।


---আসলাম?

---আরে মামা বলেন!এতদিন পর হঠাৎ কি মনে করে!?

---আজকে রাতে দুইস্টিক মাল রাখিছ।আর শোন চেক কইরা রাখিস পিনিক হয় যাতে।

---ব্যাপার কি মামা এত বছর পর আবার?

---আমি ৮ টায় আসুম।রাখ এখন।


প্রতিদিন মা বিয়ের জন্য অনেক কথা বলে।আজ বলতে পারবেনা।কারণ আজকে রাতে আর বাড়ি ফিরবো কিনা জানিনা।বাইরে অভিভাবকরা সন্তান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আমি আবার কাজে মন দিলাম।জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না।কিন্ত অনুভূতি গুলো কখনো মারা যায় না।আমার মতো হাজারো মানুষের অনুভূতি রাতের বেলা আসলামদের গাজার আসরে প্রকাশ পায়।কিন্ত মজার ব্যাপার এই প্রকাশিত অনুভূতি আসলামদের আসরেই আসরেই সীমাবদ্ধ থাকে।কখনো বাইরে বেরোনর সুযোগ পায়না।



#সমাপ্ত

গল্পের নামঃ জীবন

কলমেঃ শাওন সিকদার

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ