সাম্প্রতিক লেখাসমূহ
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
নিক ভুসিজিক - হার না মানা এক মানুষের গল্প - শাওন সিকদার
টেট্রা-আমেলিয়া সিনড্রোম নামক বিরল রোগের কারণে হাত পা ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেন অস্ট্রেলিয়ান এই উদ্যোক্তা! ৪ ডিসেম্বর ১৯৮২ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবার্ন শহরে জন্মগ্রহণ করেন নিক! আপনার আমার মতো অতটা সহজ জীবন ছিলো না নিকের!নিক ভুজিসিক এর পুরো নাম নিকোলাস জেমস ভুজিসিক। বেরিস ভুজিসিক ও ডুসকা ভুজিসিক এর ঘরে যখন নিকের জন্ম হয়, সন্তানের এরূপ আকৃতি দেখে নিক এর মা তাকে কোলে নিতে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে অবশ্য স্বামী-স্ত্রী দুজনেই তাকে ‘ঈশ্বরের ইচ্ছা’ হিসেবে বিবেচনা করে মেনে নেন।
শারীরিক অক্ষমতা থাকলেও নিক পড়াশোনা করেছেন স্বাভাবিক স্কুলেই! সবার সাথে! এজন্য তাকে ভোগান্তিও পোহাতে হয় অনেক! জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে মাত্র ১০ বছর বয়সেই আত্মহত্যার চেস্টা করে নিক! কিন্ত কোনক্রমে বেচে যায় সেবার! এরপর? এরপর তার জীবনটা অন্যরকম হয়ে যায়! মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখে আসা নিকের ভেতর বেচে থাকার অদম্য ইচ্ছে জেগে উঠে!
মাত্র ১৭ বছর বয়সে তাঁর হাইস্কুলের এক দারোয়ান তাকে জনসম্মুখে বক্তৃতা দেয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। ৫৩ বার প্রত্যাখিত হওয়ার পর, নিক যখন প্রথমবার মঞ্চে উঠলেন বক্তব্য দেয়ার জন্য তখন দর্শক সারি প্রায় পুরোটাই খালি হয়ে গিয়েছিলো।
নিক কিন্তু তাতেও হতাশ হননি। অভাবনীয়ভাবে খুব শিগগিরই তিনি অভূতপূর্ব সাড়া পান। নিকের সম্পর্কে তাঁর বন্ধুরা বলেন, তিনি এমন একজন মানুষ যিনি আনন্দের জন্য রোমাঞ্চ অভিযান খুঁজে বেড়ান।
ধীরে ধীরে মানুষের কাছে তিনি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেন যে, ঘণ্টায় এক হাজার আটশত লোককে বুকে জড়িয়ে ধরার জন্য ‘গিনেজ বুক’ এ তাঁর নাম উঠেছে। মাত্র দুইটি আঙ্গুল থাকা সত্ত্বেও তিনি এতটা দ্রুত টাইপ করতে পারেন যা অনেক স্বাভাবিক মানুষও পারে না। মিনিটে তিনি ৪৭টি শব্দ টাইপ করতে পারেন
নিকের ভাষায়,
“আমি উঠে দাঁড়াবার জন্য শতবার চেষ্টা করবো, যদি শতবারই ব্যর্থ হই তবুও ব্যর্থতা মেনে নিয়ে সেটা ছেড়ে উঠবো না। আমি আবার চেষ্টা করবো এবং বলবো, এটাই শেষ নয়”
নিকের জীবনের অর্জন কোন সুস্থ মানুষের চেয়ে নেহাত কম বরং বেশিই বলা চলে! (টেন মিনিট স্কুল ব্লগ থেকে সংগ্রীহিত)
ব্রিসবেন, অস্ট্রেলিয়া, লস এঞ্জেলস, ক্যালিফোর্নিয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় নিক ‘Life Without Limbs’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি।
এছাড়া Attitude is Altitude নামে তাঁর আরও একটি সংগঠন রয়েছে। এ থেকে প্রণোদনামূলক বক্তৃতা এবং দুর্বলদের ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করার জন্য প্রচারণা চালান তিনি। এছাড়াও যুব সমাজকে লক্ষ্য করে “No Arms, No Legs, No Worries!” নামের একটি ডিভিডি প্রকাশ করেন।
“দ্যা বাটারফ্লাই সার্কাস” চলচ্চিত্রটিতে “উইল” চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করার জন্য ২০১০ সালে নিক ভুজিসিক “Method Fest Independent Film Festival” এ সেরা অভিনেতা পদক লাভ করেন। চলচ্চিত্রটি ২০০৯ সালে “Doorpost Film Project’s” এ প্রথম পুরস্কার অর্জন করে।
২০০৫ সালে যুব ‘অস্ট্রেলিয়ান অব দ্যা ইয়ার’ পুরস্কারের জন্য তিনি মনোনয়ন লাভ করেন।
ব্যেক্তিগত জীবনেও নিক কে সফল বলা চলে! করেছেন লাভ ম্যারেজ! ২০১২ সালে নিক ভুজিসিক বিবাহ ইন্ধনে আবদ্ধ হন কানাই মিয়াহারার সাথে। মিয়াহারাকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো আপনার সন্তান যদি নিক এর মত হয় তাহলে আপনি কী করবেন? প্রত্যুত্তরে তিনি বলেন, “আমি তাকে আরেকজন নিক ভুজিসিক হিসেবে তৈরি করবো।”
বর্তমানে তাদের দুটি ছেলেও রয়েছে। ২০১৩ সালে তাদের প্রথম পুত্র কিয়োশি ও ২০১৫ সালে তাদের দ্বিতীয় পুত্র দিজান এর জন্ম হয়। স্ত্রী সন্তান নিয়ে নিক বর্তমানে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া তে বসবাস করেন।
তথ্যসূত্রঃ
১)টেট্রা-আমেলিয়া সিনড্রোম Tetra-amelia syndrome - Wikipedia
২)নিক ভুজিসিক
https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%95_%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A6%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%9A- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
জনপ্রিয় লেখাসমূহ
স্বপ্ন কীভাবে মিলে যায়? স্বপ্নের আদ্যোপান্ত - লেখাঃ শাওন সিকদার
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
উদ্ভাসে পড়লেই বুয়েটে চান্স পাওয়া যায়? লেখাঃ শাওন সিকদার
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
বাটারফ্লাই ইফেক্টের ১৪ গোষ্ঠী - শাওন সিকদার
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
আমাদের ব্যক্তিত্বের কোন দিক পরিবর্তন করা সবচেয়ে কঠিন? - শাওন সিকদার
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
জীবনে উন্নতির আসল মানে কী? - শাওন সিকদার
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
মন্তব্যসমূহ