সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

DNA টেস্ট কী কেন কীভাবে? - শাওন সিকদার

 ডিএনএ টেস্টের জন্য ভিকটিম বা মরদেহের দাঁত ও হাড় নমুনা হিসাবে সংগ্রহ করা হয়। অপর দিকে ভিকটিমের পরিবার বা স্বজনের রক্ত বা মুখের লালা সংগ্রহ করা হয়। কোনও কোনও সময় দুটিই সংগ্রহ করা হয়।

নিহতদের নমুনাকে বলা হয় ‘মিসিং পার্সনস স্যাম্পল’

স্বজনদের নমুনাকে বলা হয় ‘রেফারেন্স স্যাম্পল’।

রেফারেন্স স্যাম্পল টেস্ট করতে তেমন সময় লাগে না। এগুলো একদিনের ভেতরে দেওয়া সম্ভব। তবে ভিকটিমদের স্যাম্পল টেস্ট করতে এবং তা প্রোফাইলিং করতে একটু সময় লাগে।’

রেফারেন্স স্যাম্পলের আবার তিনটি ভাগ রয়েছে।

  • প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়।
  • প্রথম রেফারেন্স স্যাম্পল হচ্ছে বাবা-মা, সন্তান, ভাইবোন।
  • দ্বিতীয় রেফারেন্স স্যাম্পল হচ্ছে দাদা-দাদি, নানা-নানি এরকম এবং
  • তৃতীয় রেফারেন্স স্যাম্পল হচ্ছে অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন এমনকি কখনও কখনও পোশাক আশাকও নেওয়া হয়।’

প্রথমে বাবা-মা ও সন্তানদের নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। তাদের না পাওয়া গেলে ভাইবোন, তাও না পাওয়া গেলে দাদা-দাদি, নানা-নানি। তাও না পাওয়া গেলে তৃতীয় ধাপের রেফারেন্স স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়।

আরো অনেক ভাবেই ডি এন এ টেস্ট করা যায়। সবগুলো সম্পর্কে অল্প করে ধারণা দেওয়ার চেস্টা করবো!

১) ডিএনএ টেস্টের বিজ্ঞানভিত্তিক এক ব্যবহারিক পদ্ধতিকে বলা হয় ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং। এছাড়া ডিএনএ টাইপিং, ডিএনএ টেস্টিং ইত্যাদি নামেও প্রচলিত আছে।

২) ডিএনএ টেস্ট সুসম্পন্ন করার জন্য প্রথম প্রয়োজন জৈবিক নমুনা। ব্যক্তির হাড়, দাঁত, চুল, রক্ত, লালা, বীর্য ইত্যাদি বা টিস্যু মূল্যবান জৈবিক নমুনা হতে পারে।

৩) অপরাধস্থল বা অপরাধের শিকার এমন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত জৈবিক নমুনার ডিএনএ নকশাকে বা Small profile তুলনা করা হয় সন্দেহভাজনের কাছ নেয়া রক্ত বা জৈবিক নমুনার ডিএনএ নকশার সাথে।

৪) এ পদ্ধতিতে প্রথমে নমুনা থেকে রাসয়নিক প্রক্রিয়ায় ডিএনএ আলাদা করে নিতে হয়। পরে একাধিক সীমাবদ্ধ- এনজাইল বা Small restriction enzyme দিয়ে কেটে ছোট ছোট টুকরা করা হয়। এক বিশেষ পদ্ধতি ইলেক্ট্রোফোরেসিস বা Small electrophoresis এগারোজ বা পলিএক্রিলামইড জেল এ ডিএনএ টুকরোগুলো তাদের দৈর্ঘ্য অনুসারে বিভিন্ন ব্যান্ড আকারে আলাদা করা হয়।

৫) এক ধরনের বিশেষ নাইট্রোসেলুলোজ কাগজে রেডিও অ্যাকটিভ আইসোটোপ ডিএনএ প্রোবের সাথে হাইব্রিডাইজ করে এক্স-রে ফিল্মের উপরে রেখে অটোরেডিওগ্রাফ পদ্ধতিতে দৃশ্যমান ব্যান্ডের সারিগুলো নির্ণয় করা হয় এবং অপরাধস্থল থেকে প্রাপ্ত নমুনার সাথে সন্দেহভাজন নমুনার মিল ও অমিল চিহ্নিত করে তুলনা করা হয়। এই পদ্ধতিকে ডিএনএ ফিংগার প্রিন্টিং বলা হয়।

৬) বর্তমানে পলিমারেজ চেইন বিক্রিয়া বা Polymerase chain reaction বা পিসিআর (PCR) পদ্ধতিতে আরও নিপুনভাবে অল্প নমুনা ব্যবহার করে নির্ভুল ভাবে শনাক্তকরণ করা সম্ভব হচ্ছে।

এবার আসি ডি এন এ টেস্ট কোথায় করবেন? আপনি সাধারণত তিনভাবে এটা করতে পারবেন!

দেশে সরকারিভাবে পরিচালিত দুই ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি আছে।

১)ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থাপিত নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়াধীন ন্যাশনাল ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিতে যে কোনো ধরনের ডিএনএর নমুনা (হত্যা, খুন, ধর্ষণ, পিতৃত্ব নির্ণয়, অজ্ঞাত লাশের পরিচয় নির্ধারণসহ) করা যাবে!

২)পুলিশের সিআইডি বিভাগ। আদালতের অনুমতি নিয়ে ডিএনএ টেস্ট করার নিয়ম। আপনাকে আগে এই ব্যাপারে আদালতে কারণ দর্শাতে হবে যে আপনি কি কারণে ডিএনএ টেস্ট করতে চান। তারপর তারাই আপনার ডিএনএ টেস্ট করার ব্যবস্থা করে দেবে।

৩) বেসরকারিভাবে দেশের বাইরে থেকে করাতে পারবেন

এবার আসি খরচ নিয়ে!

১) যদি আপনি ডামেক থেকে করাতে চান তাহলে পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রতি ৫ হাজার টাকা আগাম ফি পরিশোধ বাধ্যতামূলক।

২) সি আই ডি রে উপযুক্ত কারণ দেখাতে পারলে এটা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করাতে পারবেন।

৩) বাইরে থেকে করাতে চাইলে খরচ হবে ২৫-৫০ হাজার টাকা।

এ সম্পর্কে সরকারি নিউজ পোর্টালের তথ্যগুলো জেনে আসতে পারেন। লিংকঃ

https://mowca.gov.bd/site/page/4c3806a4-1900-4e6e-9c29-5a1cf812d299/%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%8F%E0%A6%A8%E0%A6%8F-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%82-%E0%A6%93-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%82-%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A6%B0%E0%A6%BF

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ