সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

AMD - কালো বৃত্তের গোলকধাদা। লেখকঃ শাওন সিকদার

 (১)

আপনি ঘুম থেকে সর্বপ্রথম কী দেখেন? আপনার চোখে আসা প্রথম ভিউ টা কী? হয়তো আপনার প্রিয়তম সঙ্গীর মুখ। কিংবা আপনার গায়ের উপর লাফ ঝাপ দেওয়া আপনার সন্তান। নইলে সিলিং এ ঝুলানো ফ্যান কিংবা ছাদ। আমি কিছুটা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। প্রতিদিন ঠিক এভাবেই আপনার ঘুম থেকে উঠা হয়।

কিন্ত কি হবে যদি আপনি হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখেন আপনার চোখের সামনে বিশাল কালো অন্ধকার একটা বৃত্ত। মনে হচ্ছে আপনার চোখের ভেতর কেউ কালো কলম দিয়ে গোল করে একটা বৃত্ত একে দিয়েছে। যেদিকেই তাকান সেদিকেই চারপাশের সবকিছু দেখা গেলেও মাঝখানের এই বৃত্তটা কিন্ত সরানো যাচ্ছেই না।

আপনার কাছে হয়তো শুনে অবাক লাগতে পারে কিংবা আকাশ কুসুম জিনিস ও মনে হতে পারে কিন্ত এটা খুবই কমন একটা রোগ। নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে ৫০ বছর বয়সোর্ধ প্রতি ৭ জনে একজন এই রোগে আক্রান্ত। ভাবতে পারেন ব্যাপারটা কতটা ভয়ংকর। তারচেয়েও ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে এটা এমন একটা রোগ যার কোন চিকিৎসা নেই। মানে একবার এই রোগে আক্রান্ত হলে আপনাকে আজীবন এই রোগ বয়ে বেড়াতে হবে। যতদিন বেচে থাকবেন আপনার দৃষ্টি সীমায় থাকা দুনিয়া বিশাল এক কালো বৃত্ত আপনাকে তাড়া করে বেড়াবে।

রোগটির নাম হলো Age-related macular degeneration (AMD) গবেষকদের ভাষায় Age-related macular degeneration (AMD)is an eye disease that can blur your central vision.

(২)

এই ভয়ংকর রোগ টা আসলে কেন হয় আসুন একটু বুঝার চেস্টা করি।নিচের যেই ছবি টা দেখতে পাচ্ছেন এটা হলো আমাদের রেটিনার ফটো রিসেপ্টর এর একটা প্রতিচ্ছবি। মানে আপনি এখন এই যে মোবাইল ব্যবহার করতেছেন এইটার আলো কিন্ত প্রথমে এই ফটো রিসেপ্টর এ এসে পড়বে। ফটো মানে আলো, আর রিসেপ্টর মানে যে রিসিভ করে। তো এই আলো রিসিভ করে ফটো রিসেপ্টর আমাদের একটা ভিউ প্রদান করে যেটা আমরা দেখি।এক কথায় বলতে গেলে আমরা যা দেখি পুরোটাই ফটো রিসেপ্টর এর উপর ভিত্তি করে।

এবার এই ছবিটা দেখুন। এইটা হলো রেটিনার একটা ছোট্ট অংশ। ৫ মিমি এই যায়গার নাম হলো Macul

যায়গাটাকে আরেকটু নির্দিষ্ট করা যাক। Macul এর ভেতরে এই যে আরেকটু ছোট বৃত্ত দেখতে পাচ্ছেন এটা হলো Fovea. বলতে পারেন আমরা যা দেখি তার অধিকাংশ জিনিস ই এখান থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। সকল আলো আমাদের চোখে এসে এই Fovea তেই মিলিত হয়। এরপরই আমরা একটা ভিশন দেখতে পাই।

এখানেই সবচেয়ে অদ্ভুতুরে জিনিস টা ঘটে। AMD পেসেন্ট দের Fovea তে থাকা ফটো রিসেপ্টর গুলো আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যায়। তারা একসময় মারা যায়। এর ফলো আমাদের দেখার যেই অন্যতম মূল চালিকাশক্তি Fovea কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে আর এজন্যই AMD পেশেন্ট রা সবসময় কালো একটা বৃত্ত দেখতে থাকে।

(৩)

বিজ্ঞানীরা কিন্ত তাদের গবেষণা থামিয়ে দেন নি। সবচেয়ে বড় কথা বিজ্ঞানীরা AMD এর চিকিৎসা এর জন্য আশার আলো দেখতে পেয়েছেন কিছুটা হলেও।

আমরা অনেকেই DNA Double Helix মডেল সম্পর্কে জানি।

এই মডেল অনুসারে বলা যায় প্রথমে DNA থেকে RNA হয়।তারপর RNA থেকে Protin হয়।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে DNA হলো একটা কোড। আর RNA এর কাজ হলো এই কোড পড়ে পড়ে Protin উৎপাদন করা। আর এই প্রোটিনের সমন্বয় হলাম আমরা মানুষ।

RNA এই প্রোটিন উৎপাদন কিন্ত অবিরাম না। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আর এইটাকে নিয়ন্ত্রণ করে একটা MicroRNA-124. কোন RNA থেকে কিভাবে কোন প্রোটিন উৎপাদন হবে এটা খুব ভালো করে নিয়ন্ত্রণ করে MicroRNA-124. সবচেয়ে আশ্চর্যজনক কথা হলো MicroRNA এর এমন প্রোটিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ এর ক্ষমতাকে অনেক জটিল জটিল চিকিৎসা করা হয় যেমনঃ ক্যান্সার।

বিজ্ঞানীরা AMD রোগীদের নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে একটা জিনিস লক্ষ করেন, AMD রোগীদের Retina এর কেন্দ্রীয় অঞ্চল Fovea তে এই MicroRNA-124 সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। যেহেতু রেটিনা তে MicroRNA-124 নেই সেহেতু সেখানে প্রোটিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ এর কেউ নেই। এর ফলাফল হিসেবে AMD পেশেন্ট দের রেটিনা, তাদের ভিশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর খুব সম্ভবত এটাই AMD হওয়ার মুল কারণ।

(৪)

বিজ্ঞানীরা এই সম্পূর্ণ ব্যাপারটা পেপার আকারে প্রকাশ ও করে। এমনকি তারা AMD আক্রান্ত প্রাণীদের উপর একটা গবেষণা ও করে। ইনজেকশন এর মাধ্যমে তাদের চোখে MicroRNA-124 দেওয়া হয়, আশাজাগানিয়া ব্যাপার হচ্ছে প্রাণীদেহ এই চিকিৎসা গ্রহণ করে। তাদের ফটো রিসেপ্টর এর মৃত্যুর হার কমে যায়, চোখের প্রদাহ হ্রাস পেতে থাকে এবং ধীরে ধীরে সেই কালো বৃত্ত গায়েব হওয়া শুরু করে।

এমন একটা পজিটিভ রিপোর্ট এর পরে আমরা আশা করতে পারি খুব দ্রুতই মানুষের জন্য AMD এর চিকিৎসা আসবে। মুক্তি হবে কালো বৃত্তের গোলকধাঁধা থেকে। নতুন করে দেখা হবে সুন্দর এই পৃথিবীকে। এমনটা আশা করতেই পারি।

(৫)

পরিশেষে কিছু কথা।

আপনি কীভাবে বুঝবেন আপনি AMD এর ঝুকিতে আছেন কি না?

১) ধূমপান

২) বংশে যদি কারো AMD থেকে থাকে

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

১) ধূমপান ছেড়ে দিন কিংবা না করে থাকলে ধূমপান করবেন না।

২) নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

৩)ব্লাড প্রেশার আর কোলস্টেরল লেবেল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৪) স্বাস্থকর খাবার খান।

ধন্যবাদ। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

লেখাঃ শাওন সিকদার।

ফটো ক্রেডিটঃ সাটারস্টক, বিভিন্ন অনলাইন জার্নাল।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ