সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

আইফেল টাওয়ার বিক্রি! ইতিহাসের সেরা জালিয়াতি। লেখাঃ শাওন সিকদার

 ১৯২৫ সালের দিকে হঠাৎ করেই ফ্রান্সের ভাঙারী ব্যবসায়ীদের কাছে খুবই গোপন একটা নোটিশ আসে। ফরাসী ডাক ও টেলিগ্রাফ মন্ত্রী তাদেরকে খুব গোপনে একটা মিটিং এ অংশগ্রহণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানান। মিটিং এর ব্যাপারটা খুব গোপনীয় ছিলো। মিটিং এর বিষয়বস্ত টা কেউ জানতো না। তো যথারীতি সব ব্যবসায়ীরা মিটিং এ উপস্থিত হলো, মিটিং শুরু হলো। মিটিং এ ফরাসী ডাক ও টেলিগ্রাফ মন্ত্রী খুব অদ্ভুত একটা কথা বললেন। তিনি সবাইকে জানালেন ফরাসী সরকার আইফেল টাওয়ার এর রক্ষনাবেক্ষনের খরচ আর বহন করতে পারতেছে না। এজন্য সরকার আইফেল টাওয়ার টা বিক্রি করে দিচ্ছে। আর এই বিক্রির দ্বায়িত্ব এসে পড়েছে ফরাসী ডাক ও টেলিগ্রাফ মন্ত্রীর উপর। সবাইকে এত গোপনে মিটিং এ ডাকার জন্য ক্ষমা চেয়ে বললেন, মিটিং টা আপাতত গোপন রাখতে হবে সরকারের নির্দেশ। নাহলে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হবে সরকার কে।

অবশেষে আন্দ্রে পয়সন নামের এক ফরাসি ব্যবসায়ী এই আইফেল টাওয়ার কেনার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আলোচনায় বসেন সেই ফরাসি মন্ত্রীর সাথে। কিন্ত আলোচনায় মন্ত্রী একটু বেকে বসেন। মন্ত্রীদের মাঝে ডাক ও টেলিগ্রাফ মন্ত্রী সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত এটা বলে তিনি পরোক্ষভাবে পয়সন এর কাছে ঘুষ দাবি করেন। অন্যদিকে পয়সন কোনভাবে আইফেল টাওয়ার কেনার গৌরব হাতছাড়া করতে চাইছিলেন না। পয়সন চাইছিলেন ব্যবসায়ীমহলে নিজের একটা উঁচু অবস্থান তৈরি করতে। কাজেই লাস্টিগকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতেও তাঁর দ্বিধা ছিল না। সেই জন্য আইফেল টাওয়ার কেনার চুক্তি পাকাপাকি করতে পয়সন ৭০,০০০ ফ্রাঙ্ক ঘুষ হিসেবে দেন মন্ত্রী সাহেব কে।

ঘুষ দেওয়ার পর আর সেই মন্ত্রীর খোজ পাওয়া যায় নি। কিসের হবে আইফেল টাওয়ারের সওদা, ঘুষের টাকা নিয়ে মন্ত্রী পগার পাড়। এরপর বেরিয়ে এলো সবচেয়ে অদ্ভুত তথ্য। এতক্ষন সিনেমার মতো আইফেল টাওয়ার বিক্রির যেই সওদা হয়েছিলো, সেইটা পুরোটাই ছিলো একটা সাজানো নাটক। আর সিনেমার মতো এই নাটক সাজিয়ে পয়সন এর ৭০,০০০ ফ্যাঙ্ক হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিলো। কাজটা করেছিলেন ইউরোপ–আমেরিকায় জালিয়াতি করে নাম কুড়ানো, বিখ্যাত ভিক্টর লাস্টিগ।

পয়সন এই ব্যাপারটা লুকিয়ে রেখেছিলেন লজ্জায় আর ভয়ে। ঘুষ দেওয়ার কারণে জেল হতে পারতো তার, আর এমন ধোকার স্বীকার হওয়া একজন ব্যবসায়ীর জন্য লজ্জার বিষয় তো বটেই। আর ভিক্টর অনুমান করেছিলো পয়সন এই বিষয়টা কাউকে বলবে না। আর হয়ও সেটা। পয়সন কাউকে বলেনি। পয়সনের টাকা নিয়ে ভিক্টর পালিয়ে গিয়েছিলো তার মাতৃভূমিতে।

ভিক্টর লাস্টিগের জন্ম ১৮৮০ সালে, অস্ট্রিয়া–হাঙ্গেরিতে (এখনকার চেক রিপাবলিক)। অপরাধ জগতে পা রাখেন তরুণ বয়সেই। জীবনের একটা লম্বা সময় কাটান প্যারিসে। সেখানে পড়াশোনার সময় জুয়া তাঁকে পেয়ে বসে। তাঁর নাম ওঠে তখনকার বিভিন্ন অপরাধ ম্যাগাজিনে।১৯২৫ সালে পত্রিকায় একটি লেখা পড়েন ভিক্টর লাস্টিগ। সেখানে জানতে পারেন, আইফেল টাওয়ার সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, তার জোগান দিতে সরকারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ব্যয়ভার বহন করার চেয়ে টাওয়ারটি রদ্দি হিসেবে বেচে দেওয়াই ভালো কি না, এমন প্রশ্ন তোলা হয় লেখাটির শেষ দিকে। আর এই শেষ লাইন থেকেই লাস্টিগের মাথায় আইফেল টাওয়ার বেচে দেওয়ার বুদ্ধিটি আসে।

ভিক্টর লাস্টিগ ইতিহাসের একমাত্র ধোকাবাজ যে খোদ আইফেল টাওয়ার কেই দুই দুই বার বিক্রি করে দিয়েছে।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ