সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

টাকা ও বাস্তবতা - শাওন সিকদার

খুব আবেগী একটা লেখা। লেখাগুলো ঢাবির কোন একটা পেইজে পোস্ট করা মনে হচ্ছে কোন ঢাবিয়ানের লেখাই হবে এইগুলা। প্রথমের লেখাগুলো ঠিকই আছে কেউ টাকা থাকলে আর টেনেটুনে IELTS ৫ আনতে পারলেই কানাডা চলে যাইতে পারে। যেই বন্ধুর টাকা আছে সে বউ নিয়ে শুধু মালদ্বীপ না যেখানে ইচ্ছা সেখানেই ঘুরতে পারবে। কিন্ত এরপরে লেখা আছে কী যে হাভার্ডে ফুল স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করা আর বাপের টাকায় পড়াশোনা করা মানুষের যোগ্যতার মাঝে আকাশ পাতাল ফারাক। ব্যাপারটা আসলেই সত্য কী না দেখার জন্য হাভার্ডের ওয়েবসাইটে গেলে

একটু ভিন্ন জিনিস ই দেখলাম। হাভার্ড Financial Aid দেওয়ার ক্ষেত্রে Need-blind admission অনুসরণ করে। তাদের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট লেখা আছে , "Your financial need and your aid application will never affect your chance of being admitted to Harvard."

যার মানে হচ্ছে আপনার Financial Aid এর এপ্লিকেশন কোনভাবেই আপনার Admission এ প্রভাব ফেলবে না। আর কারো ফ্যামিলির বার্ষিক আয় যদি ৬৫,০০০ ডলারের কম হয় তাহলে সে ১০০% স্কলারশিপ ই পাবে।আমার কথায় ভরশা না হলে হাভার্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখে আসতে পারেন। লিংকঃ https://college.harvard.edu/financial-aid/how-aid-works

লেখাটার শেষে আবার খানিক আফসোস করা হয়েছে কোন এক মেয়েকে নিয়ে যে সে এক্সামের আগে vlog করে, ফ্লাটে থাকে, আইফোন আছে। কথা হচ্ছে ভাই সে মেয়ের বাপের টাকা আছে তো সে করতেছে আপনার কী তাতে? আপনাকে এসে ভাগের জিনিস দিয়ে যাবে? নাকি আপনি আফসোস করবেন সেজন্য এসব করা অফ করে দিবে? তার আছে সে করবে! কেন আপনার থাকলে আপনি করতেন না? আপনার মধ্যে করার ইচ্ছে আছে এজন্যই তো আফসোস করছেন। ব্যাপারটা হলো সহজ আমরা নিজেকে রেখে অন্যের দিকে ফোকাস করি। তার আছে সে শো অফ করবে আর এটাই নর্মাল। যা ইচ্ছে করুক সে তাতে কার বাপের কী আসে যায়।

শেষের লাইন টা দেখে আমার রাগের চেয়ে আফসোস বেশি হচ্ছে। এখানে লেখার মূলভাব টা খানিকটা এমন যে আপনার ফ্যামলি থেকে কতটা টাকা দিয়ে সাপোর্ট দিচ্ছে এটাই ঠিক করে দিবে আপনি জীবনে কতটা সফল হবেন। আর এটাই চিরন্তন সত্য। একটা মানুষের চিন্তাভাবনা কতটা দুর্বল হলে মানুষটা এমন ভাবতে পারে। রাগ কী করবো হয়তো এটাও বুঝবে না যে রাগ কেন হচ্ছি। দেখেন সারাজীবন একটা গন্ডির মধ্যে থেকে পাঠ্যবই পড়ে পাব্লিকে চান্স পাওয়াই সবকিছু না। নিজেকে নিয়ে অতিরিক্ত অবসেসড হওয়া বা হতাশ হওয়ার ও কিছু নেই। অন্যের বেশি থাকলেও আফসোস করার কিছু নেই। একটু রিসার্চ করার চেস্টা করেন সবকিছু নিয়ে। হাভার্ড নিয়ে মন্তব্যটা করার আগে একবার হাভার্ডের ওয়েবসাইট চেক করে আসতে পারতেন। কেউ ঢাবিয়ান মানে সবকিছু জেনে গেছে এমন না। হাভার্ডের ওয়েবসাইট চেক করলে অত ক্ষতি হয়ে যাবে না। একটু আশেপাশের দুনিয়া সম্পর্কে খোজ খবর রাখুন। আপনার টাকা না থাকলেই যে আপনি শেষ তা কিন্তু না। এতটা অন্ধকারে থাকলে তো হবে না। হাভার্ডে এপ্লিকেশন করতে ৭৫ ডলার লাগে সেটার উপরেও স্কলারশিপ আছে। SAT আর ACT এক্সাম দেওয়া লাগে এইখানেও আপনি অনুরোধ করলে SAT তারা কনসিডার করবে। বাকি রইলো ACT এটার জন্যও সব মিলিয়ে ১০ হাজার টাকার আশেপাশে খরচ হয়। তাদের স্কলারশিপ আপনার বিমান ভাড়া থাকা খাওয়া সব কাভার করবে এবং তারা নিজেরা বলে দিয়েছে এটা আপনার এপ্লিকেশন এ কোন প্রভাব ফেলবেন না। এখন যদি আপনি নিজেই ভেবে বসে থাকেন টাকা নেই মানে আপনি শেষ, আপনার কোন যোগ্যতা নেই জীবনে কোথাও যেতে পারবেন না অথচ আপনি একটু খোজ নিলেই সব জানতে পারছেন এখন বলুন সেটা কী টাকার অভাব নাকি আপনার নিজের ব্যার্থতা? নিজের দুর্বল মানসিকতা অজ্ঞতাকে ঢাকার জন্য সহজেই আমরা অন্যের ঘাড়ে দোষ দিতে পারি টাকার অভাবের অযুহাত দিতে পারি কিন্ত সত্য টা সত্যই থেকে যাচ্ছে। অন্যের অযুহাত দিয়ে দিনশেষে আমরা নিজেরাই ঠকে যাচ্ছি। বাস্তবতা হচ্ছে কোনকিছুই অসম্ভব না, হার মানার আগে একবার চেস্টা করে দেখুন। চেস্টা করে দেখেছেন কখনো? আপনি কতদূর যেতে পারবেন এটা সম্পর্কে আপনার সঠিক ধারণা আছে? কতটুকু সঠিক ইনফরমেশোন আপনি জানেন? নিজেকে প্রশ্ন করুন। ধন্যবাদ।

-Md Shaon Sikder

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ