সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

প্রোভার্টি পর্ণ - শাওন সিকদার

 (১)

ছবিতে দেখানো লোকটি হয়তো ক্ষুনাক্ষরেও কল্পনা করেনি তাকে শুধুমাত্র ২০০ টাকা দিয়ে কেউ একজন লক্ষ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যাবে। ঘটনাটা অনেকটা এমন যে উনি ১৬ আটি শাক নিয়ে রাস্তারে পাশে বসে ছিলো বিক্রি করার জন্য। হঠাৎ করে কেউ একজন বাইকে করে আসলো, উনার ১৬ আটি শাকের দাম হলো ১৬০ টাকা সেখানে ২০০ টাকা দিলেন। বাইক ওয়ালা লোকটি আরেকটা কাজ করলো সে টাকা পরিশোধ করার পরে আর শাকগুলো নিলো না। লোকটাকে টাকা দিয়ে চলে গেলো। লোকটাও তো বেজায় খুশি, একে তো ১৬০ টাকার যায়গায় ২০০ টাকা পেয়েছে, তার উপর লোকটা কোন শাক ই নিলো না। কিন্ত এই শাক বিক্রেতা হয়তো কখনো কল্পনাও করেনি এরই মাঝে এই তার থেকে কয়েক লক্ষ টাকা ছিনতাই হয়ে গেছে। ভাবছেন কীভাবে? বলছি!

(২)

ছবিটা লক্ষ করুন। শাক বিক্রেতা হয়তো বুঝতেই পারেনি তাকে এই ২০০ টাকা যেই লোক দিচ্ছে সে তার অজান্তেই তার ভিডিও রেকর্ডিং করছে। তার অসহায় অবস্থার ভিডিও রেকর্ডিং করে তার সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক লাগিয়ে তাকে আরো অসহায় ভাবে উপস্থাপন করে কেউ একজন সেই ভিডিও ইউটিউব ফেসবুক এর মতো প্লাটফর্মে আপ্লোড করে দিয়েছে। লক্ষ করুন এখানে ভিডিওটায় ২.৫ মিলিয়ন ভিউ হয়েছে। আর ফেসবুক প্রতি মিলিয়ন ভিউ এর জন্য প্রায় এক লক্ষ টাকা পেমেন্ট করে থাকে। সে হিসেবে ২.৫ মিলিয়ন ভিউ থেকে ফেসবুক পেইজের মালিক কামিয়ে নিচ্ছে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। তার নিশ্চয়ই ইউটিউব চ্যানেল আছে কিংবা আরো কোণ প্লাটফর্ম আছে সেখানেও হয়তো এই ভিডিও আপ্লোড করে আরো লক্ষ লক্ষ টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। পার্থক্যটা কত লক্ষ করেছেন? সে দিলো মাত্র ২০০ টাকা আর কামিয়ে নিলো কয়েক লক্ষ টাকা। এখন আমাকে বলুন ওই ২০০ টাকা দিয়ে শাক বিক্রেতার কী লাভ হলো? সে কী এক কেজি গরুর মাংশ কিনে বাসায় যেতে পারবে? সন্তানের জন্য নতুন কোন পোশাক কিনতে পারবে? নাকি তার একটা ভালো কর্মসংস্থান এর ব্যাবস্থা হলো? কিন্ত যে লোক আড়াই লক্ষ টাকা কামিয়ে নিলো সে যদি সেখান থেকে ১ লক্ষ টাকাও এই শাক বিক্রেতাকে দিতো সে কিন্ত অনেক উপকৃত হতো।

এখন বলুন এটা কী ওই শাক বিক্রেতা কে ছিনতাই করা হলো কী না? এরকম অনেক ভিডিও হয়তো আপনারা প্রতিদিন নিউজ ফিডে দেখেন লাভ রিয়েক্ট কেয়ার রিয়েক্ট দিয়ে ভরিয়ে ফেলেন কমেন্ট বক্সে গিয়ে ভালোবাসা উজাড় করে দেন পারলে শেয়ার করেন কিন্ত এসবের পেছনের যে কালো সত্য টা আছে সেটা জানেন ই না। এইযে এতক্ষন যেই ২০০ টাকা দিয়ে আড়াই লক্ষ টাকা কামানোর নিখুত বিজনেস মডেল দেখলেন এটাকে বলে "প্রোভার্টি পর্ণ" । কোন মানুষের অসহায় অবস্থাকে পুজি করে টাকা কামানোর এই বিকৃত প্রথা শুধুমাত্র বাংলাদেশে না পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে আছে। পশ্চিমা দেশগুলো আফ্রিকার মানুষের অসহায় অবস্থাকে পুজি করে বিভিন্ন এড ক্যাম্পেইন করে মিলিয়ন মিলয়ন ডলারের ডোনেশন নিচ্ছে। এশিয়ার বহু দেশে এই প্রোভার্টি পর্ণ প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা। সেসব উদাহরণ টানলে একটা মহাকাব্য লিখে ফেলা যাবে।

প্রশ্ন আসতে পারে প্রোভার্টি পর্ণে সমস্যাটা কোথায়? ভালোই তো হচ্ছে তাও লোকটা ২০০ টাকা পেলো। অন্য মানুষ এসব ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হবে তারাও সাহায্য করবে। ভালো কিছু হলে ক্ষতি কী? এখানে আসলে কিছু প্রশ্ন আছে,

আপনার এই সাহায্য থেকে কী কারো কোন পারমানেন্ট উপকার হচ্ছে? আপনি রাস্তায় একজন পথশিশু কে ধরে ৫০০ টাকা দিয়ে ভিডিও করে পাচ লক্ষ কামিয়ে নিলেন। লাভবান আপনিই হলেন, যাকে ৫০০ টাকা দিলেন তার না হলো কোন পারমানেন্ট উপকার বরং আত্মসম্মান টা আপনি মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের কাছে বিক্রি করে দিলেন। আপনি যা করতে পারতেন পাচ লক্ষ টাকা থেকে আড়াই বা তিন লক্ষ টাকা দিয়ে ওই পথ শিশুটার জন্য এমন কিছু করতে পারতেন যা তার আজীবন কাজে লাগবে। হয়তো তার পড়াশোনার খরচ দিতে পারতেন, কোটি কোটি টাকা লাগে না। হয়তো তার জন্য একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারতেন। কিন্ত তা না করে মাত্র ৫০০/১০০০ দিয়ে বাকি লাখ লাখ টাকা পকেটে পুরে নিচ্ছেন ।এটা কখনো গ্রহনযোগ্য হতে পারে না!

শেষ করবো বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় প্রোভার্টি পর্ণোগ্রাফার কে দিয়ে,

  • সঘোষিত পাব্লিক ফিগার

  • যার পেশা হলো প্রোভার্টি পর্ণ বানানো। যায় যায় দিন কে দেওয়া একটা ইন্টারভিউ এটা!

  • বেকার হলেও তিনি ঘুরতে যান মালদীপ! মালদীপে কোন আইল্যান্ডে এক হোটেল ভাড়াই প্রায় ৫০/৬০ হাজার টাকা। কোন প্রতিষ্ঠিত পেশায় না থাকার পরেও এত লক্ষ লক্ষ টাকা তাকে কোন আলাদীনের জীন এসে দিয়ে গেলো তাও জানি, কিন্ত বলবো না। তাহলে এক শ্রেনির মানুষ এসে ট্রিগারড হয়ে গালাগাল দিয়ে যাবে।

"অন্য মানুষের দারিদ্রতাকে পুজি করে, সাধারণ মানুষের আবেগের সাথে পাশা খেলে, টাকা আয়ের এই নোংরা বিকৃত ট্রেন্ড বন্ধ করুন। এমন প্রতারক আজ আছে কাল আরো আসবে আমরা যদি নিজেদের যায়গা থেকে সচেতন হই তাহলেই কেবল এই নোংরা ট্রেন্ড বন্ধ করা সম্ভব"

ধন্যবাদ

লেখাঃ শাওন সিকদার

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ