সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

প্রশ্নটা হয়তো আপনারা হাস্যকর ভাববেন কিন্ত এটা আমার কাছে একটা ফিলোসোফিকাল প্যারাডক্স - শাওন সিকদার

আমার মনে খুব উদ্ভট একটা প্রশ্ন আছে। প্রশ্নটা হয়তো আপনারা হাস্যকর ভাববেন কিন্ত এটা আমার কাছে একটা ফিলোসোফিকাল প্যারাডক্স। ব্যাপারটা হচ্ছে যারা আমার আগে নিয়মিত আমার লেখা পড়তেন তারা মোটামুটি জানেন যে আমি প্রচুর গান শুনি। উঠতে, বসতে, খাইতে, ঘুমাইতে যখনি সুযোগ মিলে হেডফোন কানে গুজে দিতাম। এখন যদিও গান শুনা একটু কমিয়ে দিয়েছি। তো আমি গান শুনার পাশাপাশি মাঝে মাঝে একা একা গাওয়ার ও চেস্টা করি। ধরুন শুয়ে আছি বা হাটতেছি হঠাত করে মাথায় গানের কোন একটা সুর আসলো, তো সেই গানটা নিজে নিজে গাওয়ার চেস্টা করি। সমস্যাটা আসলে এখানেই হয়, কতো গান শুনি সবসময় তো সব গানের লিরিক্স মনে রাখা সম্ভব হয়না। ধরুন আমি প্রচন্ড মুডে আছি গান গাওয়ার, গানটার সুরও আমার মনে আছে, কিন্ত গানটা গাওয়ার সময় দেখি যে লিরিক্স মনে নেই। খুব বিব্রতকর একটা পরিস্থিতি, গান গাইবো কিন্ত লিরিক্স মনে নেই। যখনি এমন হয় তখনি হয়তো সুরটা গুন গুন করে গাই কিংবা উল্টাপালতা লিরিক্সে আস্তে আস্তে গাই যাতে কেউ না শুনে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে আসলে কী করা উচিৎ?

  • ১) গানের লিরিক্স দেখে আবার নতুন করে গাওয়া উচিৎ?
  • ২) নাকি গানটা সুর ধরে নিজের মতো করে লিরিক্সে গাওয়া উচিৎ?

এখন বলবেন ভাই এটা কেমন প্রশ্ন হলো, খুবই সিম্পল জিনিস। কিন্ত ব্যাপারটা আমার কাছে অতটা সিম্পল মনে হয়না। আমি মোটামুটি দার্শনিক টাইপের একজন মানুষ, জীবনের ছোটখাটো জিনিসগুলোর দর্শন নিয়ে নিজে নিজে একটু চিন্তাভাবনা করি। দেখুন এখানে যদি আমি লিরিক্স দেখে গানটা গাওয়ার চেস্টা করি তখন দেখা যাবে যে আমার গান টা গাওয়ার আর মুডই রইলোনা। ব্যাপারটা কেমন হলো? আমি রাস্তায় হাটছি, হঠাত আমার একটু সুখ সুখ অনুভূত হলো, ব্যাপারটাকে অন্য মাত্রায় নেওয়ার জন্য একটা গানের সুরও মাথায় আসলো কিন্ত দেখা গেলো মোবাইল খুলে লিরিক্স দেখতে গিয়ে আমার এই অনুভূতি আর নেই কিংবা সোস্যাল মিডিয়ায় আবার হারিয়ে গেলাম! এসব ছোট ছোট সুখের সমন্‌বয়েই তো আমাদের জীবনের যত সুখানুভূতি। প্রতিটা ছোট ছোট অনুভূতি এইখানে কন্ট্রিবিউট করে, কিন্ত সামান্য লিরিক্স দেখতে গিয়ে জীবনের একটা সুখানুভূতি হারিয়ে ফেললাম। এরচেয়ে মাথায় যা আসে সেই লিরিক্সে চালিয়ে দিয়ে জাস্ট সবকিছু অনুভব করা উচিৎ।

এখন আপনার মনে হচ্ছে যে আমাদের মাথায় যে লিরিক্স আসে সেটাতেই চালিয়ে দেওয়া উচিৎ কিন্ত ব্যাপারটা এমন না! একবার ভাবুন যিনি এই গানটা লিখেছেন কিংবা সুর করেছেন, প্রতিটা লাইনের পেছনে তার জীবনের কত অভিজ্ঞতা, কত অনুভূতি, তার দেওয়া মেধা আর সময় জড়িত। আমরা চাইলেই তার গানকে ইচ্ছেমতো বিকৃত করে তার জীবনের এই অভিজ্ঞতা, অনুভূতি, সময় আর মেধাকে অসম্মান করতে পারিনা। আরেকটা কথা হলো গানের নিজস্বতা বলেও একটা কথা আছে। গানটার লিরিক্স এমন ছিলো বলেই আমি গানটা পছন্দ করেছি, গানটার একটা নিজস্বতা আছে। আমরা চাইলেই গানটাকে বিকৃত করতে পারিনা।

এখন বলুন এমন একটা ক্রিটিকাল সিচুয়েশনে কী করা উচিৎ? নিজের ইচ্ছেমতো লিরিক্সে গেয়ে যাওয়া উচিৎ? নাকি আবার লিরিক্স দেখে গাওয়া উচিৎ?

-শাওন

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ