সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

আমার লেখা প্রথম প্রেমপত্র - শাওন সিকদার

জীবনে প্রথম কাউকে নিয়ে লিখছিলাম। ভাগ্যবসত তা জীবনের শেষ চিঠি হয়ে দাড়িয়েছে। তবে চিঠিটা পড়ে কেউ হাসেনি। এটা একটা ভালো পয়েন্ট। সমস্ত আবেগ উজাড় করে লিখেছিলাম।পরিনতি জানতে চাইবেন না কেউ দয়া করে। আপনাদের জন্য চিঠিটা দিলাম।পড়ে দেখতে পারেন।



প্রিয় অনু,

ভালোবাসি! প্রথমেই ভালোবাসা দিয়ে শুরু করলাম,জানিনা কেন করলাম, তবুও করলাম,সারাজীবন করবো। চিঠিটা পাগলাটে হবে একটু, কষ্ট করে পড়ে নিও।


জানিনা কি লিখবো তবুও লিখতে বসে গেলাম।জানো অনু তোমার কথা ভাবলেই আমার বুকের বা পাশে কেমন যেন হয়, কষ্ট নাকি আনন্দ নাকি ব্যাথা কিছুই বুঝিনা।পাগলাটে একটা অনুভূতি, এর নাম কি দেই বলতো? আচ্ছা যদি কোনদিন আমরা একহই সেদিন নাহয় একসাথে আলোচনা করা যাবে এটা নিয়ে! জানো আমি হাসছি ভাবছি চিঠিটা যখন পড়বে তখন চিন্তা করবে কে লিখলো কিন্ত কল্পনাও করতে পারবে না এটা আমি।


জানো মানুষের জীবনে অনেকবার প্রেম হয় কিন্ত সত্যিকারের ভালোবাসা একবার ই হয়।সত্যিকারের ভালোবাসা কী সেটাও জানিনা আমি তবে আমার মনে হয় যখন তুমি আমার পাশে থাকো আমার আশেপাশের দুনিয়া থমকে যায়।তুমিই আমার দুনিয়া হয়ে যাও।তোমার হাসি, তোমার রাগ, তোমার দুঃখ, তোমার খুশি, তোমার বাচ্চামো, প্রতিটি কথা বার্তা সবকিছু নেশার মতো, যখন তুমি বলো আমি ঘোরে আটকে যাই, বাস্তব দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই।যখন হাসো মনে হয় এই হাসি না থামুক কোনদিন, সারাজীবন হাসতেই থাকো, এভাবেই থাকো সারাজীবন, আমি শুধু দূর থেকে অবাক হয়ে দেখবো তোমায়, বার বার হারাবো তোমার হাসির মাঝে, হারাতেই থাকবো।এভাবেই সব কিছু থমকে যাবে।শুধু তুমি হাসবে আর আমি হারাবো সেই হাসিতে।


হাস্যকর ব্যাপার, লিখতে বসেছি তোমায় নিয়ে কিন্ত একটা কথাই বার বার মুখে আসে, ভালোবাসি অনু, ভালোবাসি অনু।বার বার অকারণে মুখে চলে আসে শব্দটা ভালোবাসি অনু।জানো আমি স্বপ্ন দেখি, যদি কখনো, মানুষের কোলাহল থেকে অনেক দূরে কোন এক যায়গায়, যেখানে তুমি আমি ছাড়া কেউ থাকবে না, সেখানে কোন চাদনি রাতে জোৎনা বিলাস করতে করতে একটা কালো গোলাপ হাতে দিয়ে যদি বলতে পারতাম ভালোবাসি অনু। আচ্ছা তখন তুমি কি করতে?মেনে নিতে?নাকি ফেলে দিয়ে ফুলটা?যদি ফেলে দিতে কি করতাম আমি?হারিয়ে ফেলতাম তোমায় সারাজীবনের জন্য?নাহ তার আগেই মারা যেতাম।জানো আমার এসব বাচ্চামো নিজের মাঝে আটকে রাখা কত কষ্টের, কিন্ত আমি তো কথাও বলতে পারিনা তোমার সাথে।বড্ড ভয় পাই তোমায়।


তোমার উপর অনেক অভিমান জমে আছে অনু।তুমি অভিমানের ভাষা বুঝো না নাকি আমাকেই বুঝোনা নাকি বুঝতেই চাও না নাকি বুঝেই না বুঝার মতো থাকো কিছুই বুঝিনা।তবে একটা জিনিস বুঝি তোমাকে আমি ভালোবাসি।কতটা ভালোবাসি বলে আমার ভালোবাসার আগে পরিমান বাচক কিছু আনতে চাই না।তবে জানো আমি কান্না করি তোমার জন্য হাসিও তোমার জন্য অনেক পাগলামো করি তোমার জন্য কিন্ত সব তোমার অজান্তে এসব পাগলামো আমার মাঝেই থেকে যায়।বললে হয়তো চিনে ফেলবা তাই বলবো না আর।তোমার শাড়ি পড়া ছবিগুলো আমার মোবাইলে সব সেইভ করা।জানো আমার ফেসবুক কভার ফটোতেও তুমি আছো।আমার মোবাইলের ওয়ালপেপারেও তুমি আছো।ইনস্টাগ্রাম


ে একটা ছবি দিয়েছিলা তুমি লাল শাড়ি পড়ে।বউ সেজে।সেটা তো আমার মোবাইলে ওয়ালপেপার আছে।রোজ নিয়ম করে দেখি তোমাকে।সেই হাসি মুখ যার মাঝে আমি প্রতিনিয়ত হারাই।নিয়ম করে হারাই।ইচ্ছে করেই হারাই।তোমাকে বউ সাজা ছবি দেখলেই জামাই জামাই ফিল চলে আসে।কিন্ত তোমাকে মেসেজ দেওয়ার সাহস করতে পারিনা।বড্ড ভয় পাই কেন জানি।কিন্ত ভালোবাসি অনু বড্ড ভালোবাসি।


আচ্ছা একটা কথা বলো, সব ছেলেদের তোমায় তুমি করে কেন বলতে হবে?তাদের ছবিতে লাভ রিয়েক্ট কেন দেওয়া লাগবে?আপনি করে বলা যায় না?লাভ রিয়েক্ট কেন দিবা তুমি?লাইক রিয়েক্ট দেও।সমস্যা কী তাতে?জানো এসব আমার একদম সহ্য হয় না।প্রতিবার মনে হয় এই বুঝি কেউ আমার অনুকে নিয়ে গেলো আমার থেকে।বুক ধুকপুক করে।এই বুঝি হারিয়ে ফেললাম।এত তুমি তুমি কিসের।আপনি করে বলবা।ভাইয়া করে বলবা।আমি ছাড়া সবাই ভাইয়া তোমার। কিন্ত আমাদের তো কথাই হয়না। ইনশাআল্লাহ হবে একদিন।মন খুলে বলবো তোমাকে সব কথা। আমি শুধু বলবো আর তুমি শুধু শুনবে।সব কথা শুনতে হবে কিন্ত সেদিন।


জানো অনু, আমি স্বপ্ন দেখি, রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে তোমার কপালে চুমু খাওয়ার। তুমি ঘুমাবে আর আমি দেখবো। হারিয়ে যাবো তোমার মাঝে।চা বা কফি যেটাই নেও নিজ হাতে করে নিয়ে আসবো তোমার জন্য।চাইলে তোমার সব কাজ করে দিবো বিনিময়ে একটু হেসে দিও। তাতেই চলবে আমার।মনে করো কোন এক রাতের বেলা, ভরা জোৎনায় তুমি আর আমি জোৎনা বিলাস করবো।আমি বসে থাকবো তুমি আমার কোলে শুয়ে থাকবে।আলতো করে হাত বুলিয়ে দিবো তোমার মাথায়।তোমার যত না বলা কথা আছে সব শুনবো।আমি জানি তোমার না বলা অনেক গল্প আছে সেগুলো শুনবো।বলতে বলতে তুমি আমার কোলেই ঘুমিয়ে যাবা।আমি সারা রাত তোমায় দেখবো আর জোৎনা বিলাস করবো।আকাশের চাদমামা তোমায় দেখে হিংসে করে আলো কমিয়ে দিতে পারে।তাতে কী তুমি আমার কাছে চাদের চেয়েও সুন্দর অনু।বড্ড ভালোবাসি তোমাকে। কবে বুঝবে তুমি বলো।সহ্য হয়না আমার।জানো অনু আমার অধিকাংশ ইচ্ছের কথা বলিনাই অধিকাংশ ভালোবাসা অপ্রকাশিত রেখে গেছি কারণ তুমি চিনে ফেলবে।আর এর পরেও যদি চিনে ফেলো প্লিজ কিছু বলবা না আমাকে জিজ্ঞেস ও করবা না প্লিজ আমি হারাতে চাই না তোমাকে।প্রিয়জন হিসেবে না পাই অন্তত পরিচিত হয়ে থাকতে চাই তোমার।


অনু জানো, তুমি প্রায়ই আমার স্বপ্নে আসো। আল্লার কসম মিথ্যা বলিনা।সেদিন ও এসেছিলে। স্বপ্নে দেখি তুমি আমায় ছেড়ে অন্য কারো সাথে কথা বলতেছো কিন্ত আমি বাস্তবের মতোই কিছু বলতে পারতেছিনা।বিশ্ব


াস করো আমার দম আটকে আসছিলো ঘুমের মাঝে।হঠাৎ করে বন্ধুর কলে ঘুম থেকে জেগে উঠি।শ্বাস নেই জোরে জোরে।জানিনা কি হয়ে গেছে আমার অনু।তবে একটা কথাই জানি।তুমি নামের অসুখে ধরেছে আমায়।যে অসুখ তুমি ছাড়া সারবার নয়।প্লিজ অনু তুমি আমার হয়ে যাও।


অনু,

তুমি কি আমার একলা পথের সাথী হবে?

বা আমার আধার ঘরের বাতি?

চাইলে আমার জোৎনা বিলাসের সঙ্গী হতে পারো,

কিংবা আমার শেষ বয়সের অবলম্বন!

তুমি কি আমার স্বপ্ন দেখার সাথী হবে?

বা আমার সাথে জীবন পথের পথিক!

তোমায় নিয়ে সাত সমুদ্র পাড়ি দেবো,

তোমার মিষ্টি হাসিতে বার বার নিজেকে হারাবো,

তোমার ভালোবাসায় সপে দিবো নিজেকে।

অনু তুমি কি আমার হবে?

বড্ড ভালোবাসিগো তোমায়!


ইতি,

অজানা কেউ।

এরপর আরেকটা প্রেমপত্র লিখেছিলাম! চাইলে পড়ে আসতে পারেন!

লিংকঃ আমার লেখা ২য় প্রেমপত্র

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ