সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাম্প্রতিক লেখাসমূহ

ম্যাচিউরিটি X শাওন সিকদার

ম্যাচিউরিটি হচ্ছে যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে "মানুষ মূলত এক"। হ্যা বুঝতে পারছি আপনার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, আপনার জন্য সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তত, আপনার একজন প্রেমিকা আছে যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে, লয়ালটির দিক থেকে সে অতুলনীয়, আপনার জীবনে থাকার লিস্টে বলার মতো এমন বহু আইটেম আছে, তবুও আমি ঘুরেফিরে একই কথা বলবো, " মানুষ মূলত একা "। সাধারনত মানুষ ম্যাচিউরিটি বলতে কী বুঝে? ফেসবুকীয় আবেগী লেখকদের দাঁড়িপাল্লায় যখন আপনি মাপবেন তখন হয়তো নিজের একাকীত্ব নিজের দুর্ভাগ্য গুলোকে চুপচাপ মেনে নেওয়াকেই ম্যাচিউরিটি বলে। আপনার ফ্যামিলির কাছে হয়তো আপনার জীবনের যাবতীয় দুঃখ গুলোকে কবর দিয়ে হাসিমুখে তাদের ভরন পোষন করতে পারাটাই আপনার ম্যাচিউরিটি। আপনার বন্ধুদের কাছে হয়তো আপনার পারিবারিক ব্যেক্তিগত সমস্যাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আড্ডা দিতে পারাটাই ম্যাচিউরিটি। আপনার স্কুলের টিচারের কাছে হয়তো তাদের কথায় উঠবস করাটাই ম্যাচিউরিটি, পাশের বাড়ির আন্টির কাছে হয়তো আপনার বুয়েট মেডিকেল এ চান্স পাওয়াটাই ম্যাচিউরিটি। প্রে...

বাটপারির শৈল্পিক নাম, পঞ্জি স্কিম - শাওন সিকদার

 ডেস্টিনি ২০০০ কিংবা SPC World এক্সপ্রেস নামক MLM (Multi Level Marketing) প্রতিষ্ঠান গুলোর নাম শুনেনি এমন মানুষ খুব কমই আছে। স্ক্যাম কে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া ডেস্টিনির প্রতিষ্ঠাতা রফিকুল আমিন, তারই এক কর্মীর হাত ধরে ই-কমার্স ফর্মেটে আবার সৃষ্টি SPC World Express! সাধারণ মানুষকে মুনাফার লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা! কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কীভাবে তারা এত নিখুত ভাবে মানুষকে মুনাফার লোভ দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়?

আসুন প্রথমেই আপনাদের জারোচ্চি নামের এক লোকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই! জারোচ্চি একজন ইতালীয় বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান ব্যাংক মালিক! ব্যাংকের নাম বানকো জারোচ্চি।এই ব্যাংক তাঁর আমানতকারীদের ৬ শতাংশ সুদ দিত। সেই সময় যেটি ছিল অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় অনেক অনেক বেশি। ফলে রাতারাতি এই ব্যাংকে আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে যায় এবং রিজার্ভ ফুলে-ফেঁপে ওঠে। নতুন যে আমানতকারীরা ব্যাংকে টাকা রাখছেন বেশি মুনাফার আশায়, তাঁদের টাকা থেকেই লাভ দেওয়া হচ্ছে পুরোনো গ্রাহকদের। আসলে ব্যাংক তাঁর বিনিয়োগের লাভ থেকে এই কাজ করছে না। এভাবে বেশি দিন চলতে পারে না। নতুন গ্রাহকের সংখ্যা কমে আসতে বাধ্য। ব্যাংকে ধস নেমে এল। গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেলেন জারোচ্চি।

সেই ব্যাংকেই কাজ করতেন এক ভদ্রলোক! নাম চার্লস পনজি! তাকে মূলত ভদ্রলোক বলা চলে না! তার মালিকের এই আইডিয়া তার বেজায় পছন্দ হয়! তার মালিকের এই আইডিয়াটাকে একটু শিল্পের ছোয়া দিতে ইচ্ছে হলো তার! সে সময় বিভিন্ন দেশের ডাক বিভাগ নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক কুপন ব্যবহার করতো চিঠিপত্র বিনিময়ের জন্য। এই কুপনগুলোর স্থানীয় মুদ্রামান একই থাকলেও দেশ ভেদে মুদ্রার বিনিময় মূল্যের ওঠা-নামার কারণে অন্য কোনো দেশে তখন এই মান বেড়ে বা কমে যেত। চার্লস পঞ্জি ঠিক এ সুযোগটাই গ্রহণ করেন। এদিকে আরো একটি সুযোগ ছিল, এসব কুপনকে ডাকটিকিটের সাথে পরিবর্তন করার। পরবর্তীতে এসব ডাকটিকিটেরও দাম উঠানামা করতে শুরু করে। একেক দেশে দাম একেক রকম হয়।

চার্লস পঞ্জি ইউরোপে কিছু এজেন্ট নিয়োগ করলেন যাতে আন্তর্জাতিকভাবে এসব কুপন কম মূল্যমানের মুদ্রায় কিনতে পারেন। পঞ্জি এসব সস্তায় ক্রয় করা কুপন, ব্যয়বহুল ডাক টিকেটের সাথে বিনিময় করার সিদ্ধান্ত নিলেন। এই দুই মূল্যের ব্যবধানে বেশ মোটা একটা মুনাফা তিনি পকেটস্থ করলেন। এখান পর্যন্ত ব্যাপারটা তাও ঠিক ছিল। অন্তত আইনত কোন সমস্যা তৈরি হয় নাই। কিন্তু এরপর তিনি আরও বড় পরিকল্পনা কষলেন

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চার্লস পঞ্জি ‘সিকিউরিটি একচেঞ্জ কোম্পানি’ নামের একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এই কোম্পানির কার্যক্রম এমনভাবে সবার সামনে উপস্থাপন করা হলো, যাতে দেখানো হলো এ কোম্পানিটি স্বল্প সময়ের মধ্যে বিস্ময়কর মুনাফা প্রদান করতে সক্ষম। তিনি অবিশ্বাস্য রকমের মুনফার প্রস্তাব দিলেন, যেমন- ৪৫ দিনে ৫০% অথবা ৯০ দিনে ১০০% মুনাফা। পঞ্জি ষ্ট্যাম্প বিক্রির মাধ্যমে যথেষ্ট মুনাফা করায় বাজারে তার বিশ্বাসযোগ্যতা ছিল এবং বিনিয়োগকারীরা তার উপর আস্থা রাখলেন।

তবে নিজের কোম্পানিতে পঞ্জির খুব কমই বিনিয়োগ ছিল। পঞ্জি বিনিয়োগকারীদেরকে তাদের জমা দেওয়া অর্থই এমনভাবে পুনঃবন্টন করে দিতে শুরু করেন, যাতে তারা বিশ্বাস করতে শুরু করলো স্কিমটি সত্যিই ভালো মুনাফা করতে সক্ষম। পঞ্জির স্কিমে বিনিয়োগ করার জন্য মানুষের মাঝে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে। তার এই স্কিমটি প্রায় এক বছর চলার পর মার্কিন এস.ই.সি স্কিমটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। এই ধরনের স্কিমের জনক অবশ্য পঞ্জিকে বলা যাবে না। এই ধারণাটি অনেক আগে থেকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়ে আসছিল। ১৮৪০-১৮৬০ সালের চার্লস ডিকেন্সের কয়েকটি উপন্যাসে এরকম স্কিমের উল্লেখ আছে।(Review: Little Dorrit by Charles Dickens)

তবে পঞ্জিই সেই মানুষ যে এই ধরনের স্কিম কে একদম শিল্পের ছোয়া দিয়েছে! এজন্য তার নাম অনুসারে এই ধরনের স্কিমের নাম দেওয়া হয়েছে পনজি স্কিম! বাংলাদেশের ডেস্টিনি আর এসপিসি এক্সপ্রেস মূলত এই পঞ্জি স্কিম এর অনুসরণ করেই অগণিত মানুষকে মুনাফার লোভ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে!

কিন্ত, কর্মফল নামক একটা জিনিস আছে! এরকম ধানাই পানাই করে মানুষকে বোকা বানিয়ে পনজি তার জীবনে বেশ ভালোই মুনাফা অর্জন করেছিলো! কোটি কোটি টাকা, বিলাশবহুল জীবন কিছুই অভাব ছিলো না তার! কিন্ত তার জীবনের শেষ পরিনতি টা ছিলো করুণ! জীবনের অধিকাংশ সময় জালিয়াতির অভিযোগে তিনি জেলেই কাটান! কিন্ত টাকার নেশা তার রক্তে মিশে গিয়েছিলো! জেল থেকে বেরিয়ে বারংবার সেই একই কাজে লেগে পরতেন! পঞ্জিকে 1920 সালের 12 আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং মেল জালিয়াতির 86 টি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। আনুমানিক million মিলিয়ন ডলারের কারণে, তিনি মেল জালিয়াতির জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন এবং পরে ১৪ বছর জেলখানায় কাটিয়েছেন। তিনি 18 জানুয়ারী, 1949 সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে মারা যান। সারাজীবন অর্থের পেছনে ছুটে চলা এই মানুষটা অর্থাভাবে করুণ অবস্থায় মৃত্যুবরন করেন। ডেস্টিনির রফিকুল আমিন কিংবা তার সেই কর্মী যে এসপিসি প্রতিষ্ঠা করেছে তাদের কপালেও হয়তো একই জিনিস লেখা আছে! কর্মফল নামক একটা জিনিস আছে, আপনি যা করবেব প্রকৃতি আপনাকে তা অবশ্যই ফিরিয়ে দিবে!


তথ্যসূত্রঃ

১) ডেসটিনি টাকা দেয়নি কাউকেই

২)দশ মাসেই হাতিয়ে নেয় ২৮৬ কোটি টাকা

৩)পনজি স্কিম - উইকিপিডিয়া

৪)পঞ্জি স্কিম: এক প্রতারণার জাল

মন্তব্যসমূহ

নামহীন বলেছেন…
ধন্যবাদ

জনপ্রিয় লেখাসমূহ